লাশ মিলল শিক্ষকের কেবিনেট ড্রয়ারে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২০; সময়: ৪:৪২ অপরাহ্ণ |
লাশ মিলল শিক্ষকের কেবিনেট ড্রয়ারে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : গাজীপুরের কালীগঞ্জে আহনাফ হোসেন আদিল নামের তিন বছরের এক শিশুর লাশ কেবিনেট ড্রয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদিলকে শ্বাসরোধে হত্যা পর তার লাশ কেবিনেট ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখেন মাদ্রাসা শিক্ষক জুনায়েদ। এই কাজে জুনায়েদ ও মসজিদের মোয়াজ্জিন খাইরুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদেন্তর জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত, আটক ও ময়নাতদন্তের বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক। নিহত আহনাফ হোসেন আদিল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দশালিয়া গ্রামের মুফতি জুবায়ের আহম্মেদ শাহিনের একমাত্র ছেলে।

আদিলের বাবা কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের মরাশ বাগে জান্নাত আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল এবং একই মাদ্রাসার মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে গত ৫ বছর ধরে কর্মরত আছেন।

আটককৃতরা হলেন- মো. জুনায়েদ আহমেদ (৩০) হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে ও মো. খাইরুল ইসলাম (২২) একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে।

জুনায়েদ মরাশ বাগে জান্নাত আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ছিলন। অন্যদিকে খাইরুল ছিলেন মাদ্রাসার মসজিদের মোয়াজ্জিন। নিহতের বাবা বলেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলামের এক মোবাইল ফোন চুরি হয়। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারের বিষয়ে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

কিন্তু পরে জানা যায় ওই মোবাইল মাদ্রাসারই শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদ চুরি করেছে। বিষয়টা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং চর থাপ্পর দেই। এ ঘটনার একদিন পর আমার ছেলে বুধবার বিকেলে মাদ্রাসা মাঠে খেলতে যাওয়ার পর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

আশপাশে খোঁজাখুজি করে মসজিদের মাইকে নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়। তারপরও সন্ধান মিলছিলো না। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। কিন্তু শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদের কক্ষের চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জোরপূর্বক চাবি আদায় করে কক্ষে প্রবেশ করা হয়।

এ সময় তার কক্ষের ওয়াল কেবিনের এক ড্রয়ার থেকে আদিলের লাশ উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত সকলের সামনে জুনায়েদ এবং খাইরুল খুনের বিষয় স্বীকার করেছেন। কমিটির সহায়তায় থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মাদ্রাসা শিক্ষক জুনায়েদ ও মাদ্রাসার মসজিদের মোয়াজ্জিন খাইরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক জানান, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডি‌ক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে