দিনমজুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আল-আমিন, পড়ালিখার খরচ নিয়ে শঙ্কায়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২০; সময়: ৭:০৯ অপরাহ্ণ |
দিনমজুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আল-আমিন, পড়ালিখার খরচ নিয়ে শঙ্কায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : জন্মের পর থেকে এক চোখ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আল-আমিনের। কিন্তু মনোবল প্রতিবন্ধী নয়। কী করে সে উচ্চ শিখরে অবস্থান করবে এ চিন্তা-চেতনায় সামনের সিঁড়িতে এগোচ্ছে আল-আমিন।

প্রাথমিক গন্ডি পেরিয়ে বাড়ির পাশে জিওল দাখিল মাদ্রাসায় নিজের ইচ্ছায় ভর্তি হয়। মানুষের জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চালান বাবা। সংসারে অভাব অনাটনে তিন ভাই বোনের পড়ার খরচ বহন করতে হিমশিম খান তিনি।

এ অবস্থা বুঝে বাবার সাথে মানুষের জমিতে দিনমজুরের কাজে নেমে পড়ে আল-আমিন। এভাবে কাজ করেও ২০১৪ সালে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পায় আল-আমিন।

আল-আমিনের বাড়ি তানোর উপজেলার জিওল গ্রামে। তার বাবা ইয়াসিন আলী দিনমজুর। মাতা নুরনাহার বেগম গৃহিণী। মাতাও মাঝে মধ্যে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন।

আল-আমিন বলেন, ইবতেদায়ি পরীক্ষার পরই পড়ার খরচ চালাতে পারেনি পরিবার। বাবাকে সহযোগিতা করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ শুরু করে সে। জমিতে ধান রোপণ ও ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার, আলু রোপণ ছাড়াও কীটনাশক প্রয়োগসহ আলু পরিচর্চার কাজ করে আল-আমিন।

যেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার খবর পায়, সেই দিনও আলুর জমিতে দিনমজুরের কাজ করছিল আল-আমিন। তবে, তার প্রচেষ্টা বিফলে যায়নি ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগে চান্স পায় সে। তার স্মার্টফোন নেই। সম্পর্কের এক বড়ভাইয়ের ফোনে রেজাল্ট দেখেছে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে আল-আমিন ও তার বাবা-মা। এ অবস্থায় সরকার কিংবা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তির সাহায্য সহায়তা পেলে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে তার পরিবার। অন্যের সাহায্য ছাড়া বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়া নিয়ে শংকায় রয়েছে আল আমিন ও তার পরিবার। বর্তমানে আল-আমিনের ইচ্ছে পড়ালেখা শেষে প্রশাসনিক ক্যাডার অফিসার পদে চাকরি করার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে