চলনবিলে অভিনব ও অবৈধ কায়দায় পাখি শিকারের ধুম

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২০; সময়: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ |
চলনবিলে অভিনব ও অবৈধ কায়দায় পাখি শিকারের ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলে অভিনব কায়দায় পাখি শিকারের ধুম পড়েছে। খেজুর রসে দানাদার (বিষ) ছিটিয়ে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি শিকার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, পাখি শিকার “আইনত দন্ডনীয় অপরাধ” জানা সত্বেও পাখির মাংসের স্বাদ ও অর্থের লোভে অসাধু চক্র এভাবে পাখি শিকার করছে।

এতে একদিকে বিলের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। অপরদিকে নষ্ট হচ্ছে বিলের সৌন্দর্য্য। একই সাথে বিষে নিধনকৃত পাখি খাচ্ছে চলনবিলের দুর্গম অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি ।

চলনবিলের কলম ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক হারুন-অর রশিদ জানান, বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমতে শুরু করার মাছ খাওয়ার লোভে অতিথিসহ দেশীয় প্রজাতির পাখিরা বিলে ভিড় জমায়। আবার শীতে খেজুর গাছের রসের হাড়িতে পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। এই সুযোগে কিছু লোভী শিকারীরা দানাদার (বিষ), কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে।

সোমবার সকালে সিংড়া উপজেলার চলনবিলের কৃষ্ণপুর আত্রাই নদীর বাঁধে প্রায় কুড়িটি খেজুর গাছের রসের হাড়িতে দানাদার (বিষ) ছিটিয়ে বুলবুলিসহ শতাধিক দেশীয় পাখি শিকার করে শিকারীরা। খবর পেয়ে স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিকার করা পাখিগুলো উদ্ধার করেন। এসময় পরিবেশ কর্মীরা দানাদার (বিষ) মিশ্রিত খেজুর রসের হাড়ি ও গাছ পানি দিয়ে ধুয়ে পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসীকে সচেতন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কলম প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রভাষক হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিবেশ কর্মী মনির হোসেন, মিজানুর রহমান প্রমূখ।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পাখি শিকার বন্ধে আইন থাকলেও চলনবিল এলাকায় সরকারি তেমন কোন পদক্ষেপ ও তৎপরতা দেখা যায় না। তবে বিলের পাখি শিকার বন্ধে সকলের সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রতিটি আইন শৃংখলা সভায় বিষয়টি উপস্থাপন দরকার।

সিংড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এবিষয়ে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা সভা করছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে