বিএসএফ চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি করছে : বিজিবি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২০; সময়: ১২:০০ অপরাহ্ণ |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশের সীমান্তে গত কয়েকদিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে কমপক্ষে পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এ নিয়ে বিজেবির দাবি, চুক্তি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশিদের ওপর গুলি করছে বিএসএফ।

বিজিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা নিয়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ আত্মরক্ষায় গুলি চালানোর যে বক্তব্য দিয়ে থাকে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে প্রতিটি ঘটনার প্রতিবাদ করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং তা করতে হবে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে।

বিএসএফের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়

সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে। উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নওগাঁর পোরশা উপজেলার একটি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে তিনজন বাংলাদেশি নিহত হন।

এর আগে গত বুধবার লালমনিরহাট জেলার একটি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন দুইজন। সীমান্তে পর পর এই দু’টি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই জানুয়ারি মাসের তিন সপ্তাহেই বিএসএফের গুলিতে হতাহতের আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে এবং সীমান্তে হত্যা বেড়ে চলেছে।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির অপারেশন বিভাগের পরিচালক লে: কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তবে এসব ঘটনার ব্যাপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তথ্য অনুযায়ী আসলে সংখ্যাটা বেড়েছে। বিষয়টা নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। প্রতিটা ঘটনার পর পরই আমরা বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন চুক্তিতে বলা আছে এবং নিয়ম আছে, কেউ অবৈধভাবে সীমান্তে গেলে তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে এবং আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। কিন্তু সেটা না করে বিএসএফ কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুলি বর্ষণ করছে।’

লে: কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘যখন আমরা বিএসএফকে প্রতিবাদ জানাই, তার জবাবে তারা আমাদেরকে জানায় যে, তারা আত্মরক্ষার্থে অর্থাৎ যখন আমাদের দেশের নাগরিকরা তাদেরকে আক্রমণ করে কেবল তখনই ননলিথাল উইপেন (প্রাণঘাতী নয়) ব্যবহার করে গুলি বর্ষণ করে। যেটা আসলে গ্রহণযোগ্য নয়।’

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধের ব্যাপারে বিজিবি এবং বিএসএফের শীর্ষ পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। সেসব আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করার ব্যাপারে দুই পক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ের বিভিন্ন আলোচনাতেও সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত। আর একবার নয়, বহুবার তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সীমান্তে হত্যা কয়েক বছর কম থাকলেও সম্প্রতি আবার বেড়েছে।

সীমান্তে মানুষ হত্যা বেড়েই চলছে

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালে সীমান্তে ৩৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আর প্রাণহানির এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, এই হত্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ বের করা প্রয়োজন। কেননা এই হত্যা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এমন হতে পারে যে বাংলাদেশের মানুষ অনেকেই সীমান্তের ওপারে আছে, যারা কাজ করতে যাওয়া আসা করে। ভারতের নাগরিকত্ব আইন বা তালিকার কারণে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যদি তারা সীমান্ত পার হন, সে সময় কিছু হচ্ছে কিনা- এগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।’

গত বছরের অক্টোবরে রাজশাহী জেলায় পদ্মা নদীতে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে গোলাগুলিতে বিএসএফের একজন সদস্য নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর সীমান্তে বিএসএফের পক্ষ থেকে গুলি চালানোর ঘটনা বেড়েছে কিনা, এমন প্রশ্নও তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তবে এই প্রশ্ন মানতে রাজি নন বিজিবি’র লে: কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশিরা যেনো অবৈধভাবে সীমান্তে না যায় সে ব্যাপারেও সীমান্ত এলাকার মানুষকে সতর্ক করার কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।

‘এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বিএসএফতো বাংলাদেশের ভিতরে এসে গুলি করছে না। বাংলাদেশি নাগরিক যখন সীমান্তে যাচ্ছে, তখন গোলাগুলিটা হচ্ছে। সেজন্য আমরা সীমান্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক কর্মসূচি চালাই, যেনো বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে সীমান্তে না যায় এবং এমন সমস্যার মুখোমুখি না হয়।’ বলছিলেন বিজেবি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়েও ভারতের সাথে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে