অ্যাপ ছাড়া ‘খেপ’, বাড়ছে দুর্ঘটনা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২০; সময়: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ |
অ্যাপ ছাড়া ‘খেপ’, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক মোটরসাইকেল চালকের দেখা মেলে যারা রাইড শেয়ারিংয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমেই যাত্রী ওঠা-নামা করার কথা। যেখানে সংরক্ষিত থাকবে চালক ও যাত্রী উভয়ের তথ্য। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানছেন না চালকরা। আর ঝুঁকি নিয়ে হলেও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় যেতে রাজি হচ্ছেন যাত্রীরা।

সম্প্রতি রাজধানীর বেশকিছু স্থানে চুক্তিভিত্তিক মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে ছিনতাই, অপহরণ ও খুনের মত ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।

রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী অফলাইনে কোনো দুর্ঘটনার দায় তাদের না। অপরদিকে পুলিশের দাবি, চুক্তিতে রাইড শেয়ারের বিষয়ে তারা অবগত না।

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের আরো সচেতন হওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সরেজমিনে ঘুরে কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চালকরাই কারণে-অকারণে চুক্তিতে রাইড শেয়ার করতে চান। এতে করে তাদের কাউকে কমিশন দেয়া লাগে না। নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করলে তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে দিতে হয় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

বিআরটিএ নিয়ম করে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও চালকরা থাকছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

গত ছয় মাস ধরে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন সাদেকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি আগে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতাম। সেখানে লাভের পরিমাণ অনেক কম আবার ঝুঁকিও বেশি। তাই ঢাকায় এসেছি। ঢাকায় এসে আমি প্রথমে উবারে রেজিষ্টেশন করি। তবে তিনমাস চালানোর পর সব কাগজ দিতে না পারায় আমার রেজিষ্টেশন বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর আর নতুন করে কোনো রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতে রেজিষ্টেশন করিনি।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন নাসিব আল সজিদ। তিনি জানান, ‘অসহনীয় যানজট ও ভোগান্তি উপেক্ষা করার অন্যতম মাধ্যম বাইক রাইড শেয়ারিং সেবা গ্রহণ করা। তবে সেখানেও চলছে নানান ধরনের অনিয়ম। চাইলেই সব সময় রাইডার খুঁজে পাওয়া যায়না। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়েই চুক্তিতে চলাচল করতে হয়।’

এ বিষয় দেশের অন্যতম রাউড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার ও পাঠাওয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

তবে ‘ও ভাই’র পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম  বলেন, ‘কারো মোবাইলে যদি ইন্টারনেট না থাকে তবে সে চাইলেই ‘ও ভাই’ রাইডারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিশেষ প্রকিয়ায় আমাদের সেবাটি নিতে পারে। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তিতে চলাচল করেন তার কোনো দায়ভার আমরা নিব না।’

যোগাযোগ করা হয়ে ডিএমপির ট্রাফিক কমিশনার মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘চুক্তিতে কেউ রাইড শেয়ার করে বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিলো না। তবে, কেউ যদি এমন কাজ করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর আগস্ট মাসে মোটরসাইকেলে চুক্তিতে যাত্রী তুলে খুন হয়েছিলেন পাঠাও চালক মিলন। তার মোটরসাইকেলে যাত্রী হিসেবে উঠেছিলেন ছিনতাইকারী নুর উদ্দিন ওরফে সুমন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে