ফের মিন্নিকে নিয়ে তিন সাক্ষীর চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২০; সময়: ৫:১৮ অপরাহ্ণ |
ফের মিন্নিকে নিয়ে তিন সাক্ষীর চাঞ্চল্যকর তথ্য

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মামলায় দায়রা আদালতে মো. হেলাল সিকদার, মো. দুলাল খানঁ ও নয়ন বন্ডের বাসার কাজের বুয়া মোসা. ফুলি বেগম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের দেয়া জবানবন্দিতে মিন্নির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান তাদের সাক্ষ্য ও জেরা রেকর্ড করেন।

গতকাল সোমবার (২৭ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ৯টায় বরগুনা জেলা কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় আটজন প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে দায়রা আদালতে উপস্থিত করা হয়। জামিনে থাকা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও আদালতে উপস্থিত হন। রিফাত হত্যায় আসামি মুছা পলাতক রয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় আদালত এজলাসে বসেন জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান।

আদালতে সাক্ষ্য দেয়া শেষে হেলাল সিকদার বলেন, নয়ন বন্ড আর আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত বরগুনা জেলা স্কুলে পড়াশোনা করেছি। এরপর একসঙ্গে কম্পিউটার শিখেছি। নয়ন বন্ড আমার ভালো বন্ধু। নয়ন বন্ড ২০১৮ সালের শেষ দিকে মিন্নিকে বিয়ে করে। ২০১৯ সালে বরগুনা ইউটিডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব পাশে নয়ন বন্ড জম্মদিন পালন করে। আমি ওই অনুষ্ঠানে ছিলাম। মিন্নি একটি ফুলের তোড়া নিয়ে সেখানে আসে। রিফাত ফরাজি, তানভির, নাঈমসহ ১০-১৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিল। মিন্নি নয়ন বন্ডকে কেক খাইয়ে দেয়। সে দৃশ্য আমি মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেই।

হেলাল সিকদার বলেন, ঘটনার দুইদিন আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে সকাল ১০টার সময় মিষ্টি পট্টির রোডে দেখা হয়। রিফাত আমাকে বলে, তোর সঙ্গে কথা আছে। দেখা করিস।

ওইদিন বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে আবার দেখা হয়। আমাকে রিফাত শরীফ তার মোটরসাইকেলে করে জেলা স্কুলে নিয়ে যায়। রিফাত আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুই ভিডিও ছাড়ছোস কেন। এরপর রিফাত আমার ফোন নিয়ে যায়।’

নয়ন বন্ডের বন্ধু আরও বলেন, আমি এ ঘটনা নয়ন বন্ডকে বলে দেই। নয়ন বন্ড মিন্নিকে ফোন করে বলে, রিফাত শরীফ যেন আমার ফোনটি দিয়ে দেয়। মিন্নি রিফাত শরীফকে আমার ফোন দিতে বলে। এতে রিফাত শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্নিকে চড়-থাপ্পড় দেয়। আমি শুনেছি এতে মিন্নি ক্ষুধ্ব হয়।

রিকশাওয়ালা দুলাল খাঁন বলেন, ঘটনার দিন ২৬ জুন সকাল ১০টায় একজন যাত্রী নিয়ে আমি ঘটনাস্থল ক্যালিক্স একাডেমির সামনে যাই। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আবার যাত্রীর অপেক্ষায় থাকি। তখন দেখি ৭-৮ জন পোলাপান একটি ছেলেকে টা’নাহেঁচরা ও কিল-ঘুষি মারতে মারতে নিয়ে আসে। একটু পর দুই ছেলে দুটি দা নিয়ে এসে ওই ছেলেটাকে কো’পাতে থাকে। ছেলেটি র’ক্তাক্ত অবস্থায় আমার রিকশায় উঠে বলে, ‘আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।’ আমি একটু দূরে আসার পরে একটি মেয়ে এসে আমার রিকশায় ওঠে। আমি মেয়েটিকে ছেলেটার কাটা জায়গা চেপে ধরতে বলি। র’ক্তে আমার রিকশা ভিজে যায়। পুরো রোডে র’ক্ত পড়েছে। আমি আহত ছেলেটিকে বরগুনা হাসপাতালে নিয়ে আসি। সঙ্গে ওই মেয়েটাও ছিল। পরে জানতে পারি নয়ন বন্ড, রিফাত ফারাজি, রিশান ফরাজিরা রিফাত শরীফকে কুপিয়েছে।

নয়ন বন্ডের বাসার কাজের মহিলা মোসা. ফুলি বেগম বলেন, আমি প্রায় দুই বছর নয়ন বন্ডের বাসায় কাজ করি। তারিখ মনে নেই। তবে দেড় বছর আগে নয়ন বন্ড আর মিন্নির বিয়ে হয়। মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় বসে। ওই সময় আমি ছিলাম। নয়নের মা সবাইকে মিষ্টি খাওয়ায়। আমিও মিষ্টি খাই। পরের দিন নয়ন বন্ড আর মিন্নি কুয়াকাটা যায়। এক সপ্তাহ কুয়াকাটা থাকার পর আাবার বাসায় আসে। মিন্নি প্রতিদিন নয়ন বন্ডের বাসায় আসতো, রাতও থাকত।

ফুলি বেগম বলেন, মিন্নির মা নয়ন বন্ডের মাকে ফোন করে বলত, বেহাইন আমার মেয়েকে গরম পানি করে দেবেন। ও ঠাণ্ডা লাগাতে পারে না।

ফুলি বেগম আরও বলেন, রিফাত শরীফ মারা গেছে বুধবার। আগের দিন মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১০টার সময় মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় আসে। আমি দরজা খুলে দেই। নয়ন বন্ড তখন ঘুমে ছিল। মিন্নি নয়ন বন্ডের রুমের দরজায় টোকা দেয়। নয়ন বন্ড দরজা খুলে দিলে মিন্নি ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনুমান দেড় ঘণ্টা থাকার পর মিন্নি চলে যায়। এমনিভাবে মিন্নি প্রত্যেকদিন নয়ন বন্ডের বাসায় আসত। মিন্নির স্যালোয়ার-কামিজ নয়নদের বাসায় থাকত। রাতেও মিন্নি নয়নের বাসায় থেকেছে। নয়নের মা জানত না মিন্নিকে রিফাত শরীফ বিয়ে করেছে। আমিও জানতাম না। রিফাত শরীফ খু’ন হওয়ার পর শুনি মিন্নি আবার বিয়ে বইছে।

আসামি পক্ষের সাতজন আইনজীবী তিনজন সাক্ষীদের জেরা করেন। আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতে যেভাবে সাক্ষ্য দিয়েছে, তাতে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।’ অন্য আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেনি।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা সকলেই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করে, বাদী ন্যায়বিচার পাবেন। মিন্নি রিফাত শরীফের হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তা নয়ন বন্ডের বাসার কাজের মহিলা সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে