কানসাট ইউপি’র মহিলা সদস্য ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২০; সময়: ৬:৫০ অপরাহ্ণ |
কানসাট ইউপি’র মহিলা সদস্য ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : দারিদ্র বিমোচনের জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। যার প্রেক্ষিতে সরকার বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেছেন সুবিধা ভোগিদের। এতে করে স্থানীয়ভাবে অনেক দরিদ্র ব্যক্তিরা স্বাবলম্বী হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এমন উদ্যোগের সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করছে। এমনই ঘটনা ঘটিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিকগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য ফেরদৌসী বেগম বুচিয়া।

তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিবেন বলে হতদরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২ শতাধিক অসহায় ব্যক্তির কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। ২ বছর হয়ে গেলেও তিনি এখন পর্যন্ত অনেকের সুবিধা ভোগির কার্ড কিংবা টাকা পরিশোধ করেননি বলে ভূক্তভোগিরা অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর তিনি এসব টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকারও করেন।

অবশেষে এই অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন এলাকাবাসীর পক্ষে সোহেল ও জোনাকী বেগম নামে ২ ব্যক্তি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সমাজ সেবা কর্মকর্তা কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করলে বুধবার সকালে উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন শুনানীর জন্য।

এদিকে, হতদরিদ্র ও অসহায় ভূক্তভোগি ব্যক্তিরা টাকা ও কার্ড পেতে কানসাট ইউনিয়ন পরিষদে ভীড় মজান। ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেনাউল ইসলামের শারীরিক অসুস্থ থাকায় পরিষদে উপস্থিত না হওয়ায় শুনানী স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফারুক আহমেদ তাদের শান্ত করেন পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এদিকে, নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ওয়ার্ড সদস্য বলেন, এই মহিলা মেম্বার শুধু সাধারণ অসহায় ও দরিদ্রদের সাথে অনিময় করেননি। তিনি আমাদেও সাথেও অনিয়ম করেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এসব অনিয়ম করছেন। “কেউ যদি কিছু বলছে, তাকে বলছে যা পারবি তা করে নিস”।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মহিলা সদস্য ফেরদৌসী বেগম বুচিয়া এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কারো কাছে কোনো টাকা আদায় করিনি। আমি অনেকের কার্ড বিনা টাকায় করে দিয়েছি। যার প্রমাণ আমার কাছে আছে। আমার বিরুদ্ধে সবাই মিথ্যে অভিযোগ করছে। এছাড়া যে দু’জন অভিযোগ করেছে তারা সবাইকে ডেকে নিয়ে এসেছে।

অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফারুক আহমেদ জানান, গত ৮ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সমাজ সেবা কর্মকর্তা কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করলে বুধবার সকালে শুনানীর জন্য উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যানের শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিন শুনানী করা সম্ভব হয়নি। চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে আগামীদিন ধার্য করে উভয় পক্ষ কে আবারও ডাকা হবে।

ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কা ন কুমার দাস জানান, কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য ফেরদৌসী বেগম বুচিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি পাওয়ার সাথে সাথে আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি ওই অভিযুক্ত মহিলা সদস্যকে সমস্ত কাজ থেকে বিরত রাখতে। এই অভিযোগটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে