সিরাজুল ইমামের হাত কেটে ফেলা উচিত : শিব সেনা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২০; সময়: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ |
সিরাজুল ইমামের হাত কেটে ফেলা উচিত : শিব সেনা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মুসলমান সম্প্রদায়ের মাথার কাটার জন্য সিরাজুল ইমামের হাত কেটে নেয়া উচিত বলে দাবি করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিব সেনা। শুক্রবার তাদের মুখপাত্র সামনায় জওহরলালনেহুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীকে নিয়ে এমন মন্তব্য ছাপা হয়েছে।

পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে জানানো হয়, সিরাজুল মুসলিম সম্প্রদায়ের মাথা কেটে ফেলেছে। কাজেই তার হাত কেটে ফেলে তা শিলিগুড়ি করিডরে রাখা উচিত।

মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের এই সংগঠককে নিয়ে সমালোচনাও করা হয়েছে শিব সেনার পত্রিকায়। মহারাষ্ট্র শাসন করা শিব সেনা জানায়, হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিতর্ক বাড়াতে চেষ্টা করা হয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে বিদ্যমান গৃহযুদ্ধাবস্থা ও বিশৃঙ্খলার মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তারা জানায়, শহুরে নক্সালবাদ এখানে রয়েছে। একজন সিরাজুল গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু যাতে তার মতো আর কারো আবির্ভূত না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তার মন্তব্য দেশবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মতোই। দিল্লির নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজুলের বক্তব্য বিজেপির হাতে একটি ইস্যুতে এনে দিয়েছে।

বুধবার বিহারের জেহানাবাদ থেকে আটক করা হয়েছে এই পিএইচডি গবেষককে। বর্তমানে তিনি পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।

মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক অবস্থান কর্মসূচি আয়োজনে সহায়তা করে দেশজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সারা ভারতে বহু বিক্ষোভ, সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বৈষম্যপূর্ণ আইনটির বিরুদ্ধে।

ক্ষোভে উত্তাল আসাম অঞ্চলকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয়তাবাদীদের রোষানলে পড়েছেন ৩১ বছর বয়সী ইতিহাসের এ শিক্ষার্থী। তার এই আহ্বানকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল বলে তুলনা করেছেন ক্ষমতাসীনরা।

আটক হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তিনি কেবল রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত করার কথা বলেছিলেন।

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বলেন, দিল্লির নির্বাচন সামনে রেখে নেতৃত্বহীন ব্যাপক বিক্ষোভকে উপেক্ষা করতে তার নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছে বিজেপি। যেসব শিক্ষিত মুসলমান বিক্ষোভ করছেন, তাদের সুনাম নানাভাবে নষ্ট করতে চাচ্ছেন তারা।

বামপন্থী তৎপরতা ও বিজেপি সরকারের বিরোধিতায় বহু আগ থেকে তার নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আধুনিক ভারতের ইতিহাসের ওপর জওহরলাল নেহরুতে পিএইচডি করছেন সিরাজুল। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক করেন তিনি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে