বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমার প্রথম দিন

প্রকাশিত: ০৯-১১-২০২২, সময়: ১৩:২৮ |
Share This

আশিকুজ্জামান আশিক : আমি এবার ২১-২২ সালের এ্যাডমিশন পরীক্ষার্থী ছিলাম। প্রস্তুতি মেডিকেলের হলেও হয়তো সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সেখানে হয় নাই, তবে হতাশ না হয়ে পড়া চালিয়ে যাই এবং কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ১২৩১ তম হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে পড়ার সুযোগ পাই।

গত ৮ই নভেম্বর আমাদের ভর্তির দিন ছিলো এবং এটাই আমার প্রথম ক্যাম্পাস ঘুরা।

মূল ফটক দিয়ে যখন প্রথম ক্যাম্পাসে ঢুকি তখন মনে হলো আমি এক ভিন্ন কোনো জায়গায় চলে এসেছি। আশে পাশে সবুজে ঘেরা পরিবেশ।

আমি যেহেতু ভর্তি হতে এসেছি তাই প্রথমেই চলে গেলাম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে। সেখানে ইতিমধ্যেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

ক্যাম্পাসে ঢুকেই ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়া সাইফুর ভাইয়াকে ফোন দিয়ে সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে চলে গেলাম। এতো বড় ক্যাম্পাসে নতুন এসে কিছু খুঁজে পাওয়া একটু জটিল।

অডিটোরিয়ামে কৃষি অনুষদের ভর্তি ফরম নিলাম, দিলাম মেডিকেল টেস্ট, এরপর ব্যাংকে ভর্তি ফি জমা দিলাম। ইতিমধ্যেই অনেক নতুন বন্ধু জুটিয়ে ফেলেছি ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে।

ভর্তি শেষেই ক্যাম্পাস ঘুরা শুরু। আমার আর সাইফুর ভাইয়ার সাথে যুক্ত হয় আমাদের রাজশাহীর আরেক সহপাঠী রিফাত।

প্রথমেই ভাইয়া নিয়ে গেলো আমাদের শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার হলে। ভাইয়া আমাদের বাইরে খাওয়াইতে চাইছিলো কিন্তু আমাদের ইচ্ছে ডাইনিং এর খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেওয়া।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের নিম্নমানের সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের মানুষের একটু এ্যালার্জি আছে বললেই চলে কিন্তু এই ডাইনিং এর খাবার আমার বেশ ভালোই লেগেছে।

মাত্র ৩০ টাকায় ডাল, ভাত, সবজি এবং মাছ, মাংস বা ডিমের যেকোনো একটি যা বেশ ভালোই লেগেছে।

খাওয়া শেষে গেলাম সাইফুর ভাইয়ার রুমে, পথিমধ্যে অনেক বড় ভাইয়াদের সাথে দেখা। তারা সবাই বেশ আন্তরিক এবং খোঁজ খবর নিয়েছেন যা বেশ ভালোই লেগেছে। আর র‌্যাগিং নামক ব্যাধি রোধে প্রায় প্রতিটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

তবে বড় ভাইয়াদের ব্যবহারে র‌্যাগিং এর স্বীকার হতে হবে এমন চিন্তা মাথায়ই আসে নাই। কিছুক্ষণ ঘুরে দেখলাম হলটা। বেশ সুন্দর এবং পরিষ্কার পুরো হল। প্রতিটি রুমে ছিলো বারান্দা যা একেবারে কবিদের লেখা সবুজের ঘাণ মিশ্রিত।

এরপর আমরা কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বের হলাম ক্যাম্পাস দেখতে। বিভিন্ন অনুষদ ঘুরে দেখলাম। অনুষদগুলোর ভবনগুলোর চেয়ে আমাকে মুগ্ধ করেছে অনুষদের বাইরে লাগানো গাছপালা।

কি নেই এই ক্যাম্পাসে। আমি দেখেছি ধান, গম, পেয়ারা, বরই, ড্রাগন ফল, লাউ, কুমড়াসহ নাম না জানা অনেক গাছ, ফল কিংবা ফসল।

এগুলোর সবই উন্নত জান উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করা হচ্ছে। এই কৃষির প্রতি গবেষণা যত বাড়বে ততই দেশ এগিয়ে যাবে এবং এরকম একটা বিষয় নিয়ে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে হয়েছে।

গ্রীন হাউজের গবেষণাও চলছে দেখলাম, পাশাপাশি মৎস অনুষদের পুকুর, ভেটেরিনারি অনুষদের খামারসহ অনেক কিছু ঘুরে দেখলাম।

অতঃপর বিকেলের শুরুতেই ঘুরা শেষ করলাম এবং রওনা হলাম আমার খালামণির বাসার উদ্দেশ্যে। অপেক্ষা কবে শুরু হবে ক্লাস।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এই প্রথম দিন আমার জীবনের এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।

উপরে