মোখায় ‘ঝুঁকি’ নিয়ে কাজ করা কর্মীদের প্রশংসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৩; সময়: ৪:৫০ অপরাহ্ণ |
মোখায় ‘ঝুঁকি’ নিয়ে কাজ করা কর্মীদের প্রশংসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র তাণ্ডব শেষ হয়েছে। রোববার (১৪ মে) সন্ধ্যার দিকেই বাংলাদেশকে ঝুঁকিমুক্ত করে কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিকে চলে যায় এ ঘূর্ণিঝড়টি।

তবে টেকনাফ, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন এলাকায় মোখার তাণ্ডবের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করেছেন।

সোমবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ছবি সম্বলিত পোস্টে মোখায় ঝুঁকি নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের মধ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন গর্ভবতী মায়ের নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পাঁচজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে শিশু জন্ম নিয়েছে।

আরও তিনজন মা বর্তমানে ডেলিভারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। একইসঙ্গে হাসপাতালের সব কার্যক্রম এ নির্ভীক স্বাস্থ্য সৈনিকেরা সচল রেখেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে সব স্বাস্থ্য সৈনিকদের স্যালুটও জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ আবহাওয়ায় হাসপাতাল কমপ্লেক্সে অন্যদিনের মতো রোগীর আনাগোনা নেই। কিন্তু এ অবসরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বসে থাকতে চাননি।

তাই অন্যান্যদের মতো কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্টরা মেডিকেল টিম নিয়ে মাঠে নেমে যান এবং বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে সেবা দেন।

এছাড়া দেশের মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ ইউনিয়ন টেকনাফের সাবরাংয়ের কোয়াইংছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে ঘূর্ণিঝড়ে গাছের ভাঙা ডাল পড়ে মাথা ফেটে যাওয়া এক রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে।

অতি প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়-দুর্যোগের মধ্যেও গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন মায়ের প্রসবজনিত জটিলতার কারণে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে, এর মাধ্যমে হাসপাতালটিতে দুইটি সুস্থ শিশু জন্ম নিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ছিল সেন্টমার্টিন এলাকা। সেই সেন্টমার্টিনের ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্টাফরা আশ্রয়প্রার্থী জনগণের সঙ্গে এক কাতারে নেমে এসে জরুরি সেবা চালিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা আঘাতের পর ভয় কাটিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক কক্সবাজার ও টেকনাফ। সকালে থেকে উঁকি দিয়েছে সূর্য। একইসঙ্গে বেড়েছে তাপমাত্রাও। অন্যদিকে তিনদিন পর সমুদ্র সৈকত অপেক্ষা করছে পর্যটকের জন্য।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে