কলম খেকো মোতালেব পেট থেকে বের হলো ১৫ টি কলম

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৩; সময়: ১:৩৪ অপরাহ্ণ |
কলম খেকো মোতালেব পেট থেকে বের হলো ১৫ টি কলম

স্বপন মির্জা, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার খুকনী গ্রামের মানষিক প্রতিবন্ধী মোতালেব হোসেন (৪০) সকলের অগোচরে আস্ত কলম খেতেন।

কলম গুলো হজম না হওয়ায় পাকস্থলীতে প্রচন্ড ব্যাথা হতো তার। এই কলম খাওয়ার বিষয়টি পরিবারের কেউ না জানায়, তার এ ব্যাথা ও অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য নানা জায়গায় চিকিৎসকের দারস্থ হচ্ছিলেন তারা। কিন্তু এর কোন সমাধান মিলছিল না। অবশেষে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এসে বিষয়টি ধরা পরে। পরে পেট থেকে আস্ত ২০ টি কলম (বলপয়েন্ট পেন) বের করা হয়।

সে থানার খুকনী ইউনিয়নের আটারদাগ গ্রামের মৃত আবদুর রহমান ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তাদের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে মোতালেব সবার বড়। বিষয়টি নিয়ে এখন সিরাজগঞ্জ জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের চিকিত্সকেরা গত দুসপ্তাহ ধরে মেডিসিন বিভাগে মোতালেব হোসেনের পেট ব্যথার চিকিত্সা দিয়ে কোন ফল না পেয়ে অবশেষে পেটে এক্সে ও আলট্রাসোনোগ্রাম করে বুঝতে পারেন যে তার পাকস্থলীতে কলম জাতীয় কোন পদার্থ আছে।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার তার গলা দিয়ে টিউব ঢুকিয়ে এন্ট্রোসকপি করে করে ১৫ টি আস্ত কলম বের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত এই অব্যাহত চেষ্টার পর এই কলম গুলো বের করা সম্ভব হয়। তবে তার পাকস্থলীতে এখনও ৪-৫ আস্ত কলম রয়েছে।

মোতালেব হোসেন জানান, আমি কখন কী ভাবে এই কলম গুলো খেয়েছি আমি কিছুই বলতে পারব না। তবে আমার মনে হয় এই কলম গুলো দীর্ঘ দিন ধরেই আমার পেটের মধ্যে ছিল।

মোতালেব হোসেন বলেন, আমি আগে একদম সুস্থ স্বাভাবিক ছিলাম । গত এক বছর ধরে আমার পেট ব্যথা করে। কোন কাজ করতে পারি না।

তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোতালেব হোসেন পেশায় তাঁত শিল্পের শাড়ি তৈরী তাঁতের এক জন হুকজ্যাকেট চিত্র শিল্পি। তিনি ১৯৯৯ সালে একটি বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেছেন। এর পর ২০ ২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষা দিতে পারেন নি। ২০০৬ সালেও তার এমন পেট ব্যথা হয়েছিল। সেসময় তার পেটে অস্ত্র পাচার কর পাকস্থলী থেকে দুটি পাঁচ ইঞ্চি লোহার টুকরো বের করা হয়েছিল।

মোতালেব হোসেনের মা লাইলী বেগম বলেন, আমার ছেলে অনেক ভাল ছাত্র ছিল। এসএসসি পাশের পর
সে তার বন্ধুদের সাথে গাঁজা সেবনে অশক্ত হয়। এর পর কখন এগুলো খেয়েছে আমরা বলতে পারব না ।

লাইলী বেগম বলেন, আমার ছেলে নেশা করলেও সে দীর্ঘ দিন সুস্থ স্বভাবিক ভাবেই কাজ করেছে ।গত এক বছর হলো তার পেট ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যে কারনে তাকে বিয়ে করাতে পারিনি। তার ছোট ভাই বিয়ে করেছে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কনিষ্ঠ পরামর্শক (জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এমন আস্ত ২০ টি কলম পাকস্থলী তে নিয়েই সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এখন সে অনেকটাই সুস্থ। ১৫ টি কলম বের করা হয়েছে। বাকি গুলো আগামী সোমবারে আবারও এন্ট্রোসকপি মাধ্যমে বের করা হবে। তবে এমন আস্ত কলম স্বাভাবিক অবস্থায় সে কী ভাবে খেলো এটি চিন্তার বিষয়।

আমিনুল ইসলাম বলেন,আমাদের মনে হচ্ছে তার স্নায়ুতন্ত্রীতে সমস্যা থাকতে পারে।

এই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান জাহিদুল ইসলাম বলেন, মোতালেব হোসেন গত দু সপ্তাহ আগে পেট ব্যথা নিয়ে এই হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়েছিল।এর পর তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় তার পেটের এক্সে ও আলট্রাসোনোগ্রাম করা হয়। এর মাধ্যমেই এই কলম গুলো বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। এখন সে অনেকটাই সুস্থ। সবগুলো কলম অপসারণের পর তাকে স্নায়ুতন্ত্রীক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দেখে চিকিত্সা দেবেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে