৫ শতাধিক কিডনি রোগীর ভরসা এক হাসপাতালের দুই বেড

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৩; সময়: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ |
৫ শতাধিক কিডনি রোগীর ভরসা এক হাসপাতালের দুই বেড

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : পাঁচ শতাধিক কিডনি রোগী থাকলেও নাটোরে সরকারি ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এ জেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের মাত্র দুটি বেডে কিডনি রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। এ কারণে অধিকাংশ রোগীকে অন্য জেলায় চিকিৎসা নিতে যেতে হয়। এতে রোগীদের যেমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তেমনি চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে।

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে নাটোর সদর হাসপাতালে দ্রুত কিডনি চিকিৎসা চালুর দাবি সংশ্লিষ্টদের। এদিকে সদর হাসপাতালে কিডনির চিকিৎসা শুরু করতে আরও তিন মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

নাটোর জেলায় পাঁচ শতাধিক কিডনি রোগীকে প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিস করতে ছুটতে হয় ঢাকা, রাজশাহী ও বগুড়ার সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে। এখানে মাত্র একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই বেডের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এইখানে প্রতিবার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। আর সদর হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকলে খরচ পড়তো সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

নাটোর শহরের গাড়িখানা মহল্লার বাসিন্দা ও নাটোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার জুবায়ের হোসেন বলেন, তার স্ত্রীকে ডায়ালাইসিস করতে ঢাকা, রাজশাহী ছুটতে হয়। নাটোর শহরের একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার হলেও দরিদ্র মানুষের এ ব্যয় বহন করা সম্ভব না।

একতা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এস এম জাকির হোসেন বলেন, কিডনি ডায়ালাইসিস যন্ত্রাংশের দাম ও ডায়ালাইসিসের প্রক্রিয়া ব্যয় বহুল হওয়ায় রোগীদের খরচ বেশি পড়ছে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ডায়ালাইসিসের সেবা শুরু করেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠান চালাতে যে টুকু খরচ নিতে হয় সেই টুকু খরচই তিনি নিচ্ছেন বলে জানান।

ডা. এস এম জাকির হোসেন বলেন, জেলায় পাঁচ শতাধিক কিডনির রোগী আছে। জেলার কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘব ও খরচ কমাতে সদর হাসপাতালে নির্মাণাধীণ কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার দ্রুত চালুর বিকল্প নেই। সরকারিভাবে কিডনি চিকিৎসা দ্রুত চালুর দাবি করেন তিনি।

নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব বলেন, তারা নাটোর সদর হাসপাতালে ১০ বেডের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ করছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে এটি হস্তান্তরের সময় নির্ধারণ থাকলেও বিষয়টি জন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিন কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে ১০ বেডের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে