যুদ্ধাপরাধী সাঈদী মারা গেছেন

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৩; সময়: ৯:১৯ অপরাহ্ণ |
যুদ্ধাপরাধী সাঈদী মারা গেছেন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন। জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির সাঈদীর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

কাশিমপুর কারাগারে থাকা সাঈদী অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার তাকে গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা.রেজাউর রহমান। তিনি বলেন, সাঈদীর ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়েছিল।

ডা. রেজাউর রহমান বলেন, “রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আমাদের কার্ডিওলজিস্ট টিম তাকে ডেড ডিক্লেয়ার করেছে। হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন।”

মৃত ঘোষণার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, “উনার দুই ছেলে এখানে উপস্থিত আছেন। আনুষ্ঠানিকতা সেরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

সাঈদীর মৃত্যুর পর বিএসএমএমইউ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সালমান ফার্সী।

কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এ বন্দী ছিলেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেখানে থাকা অবস্থায় গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সাঈদী। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কাশিমপুর কারাগারেই ছিলেন। সেখানে বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানালে রোববার সন্ধ্যায় সাঈদীকে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তাকে দেখে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

যুদ্ধাপরাধের জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা গোলাম আযমেরও আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। তিনি দণ্ড ভোগ করার সময় হাসপাতালে মারা যান। একাত্তরে ‘দেইল্লা রাজাকার’ হিসেবে পরিচিত সাঈদী পরে ইসলাম ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিতি কুড়ান। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াতের মনোনয়নে পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্যও হন।

তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের রায় দেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারক বলেছিলেন, “এই মামলা যার বিরুদ্ধে তিনি বাংলাদেশে অত্যন্ত সুপরিচিতি। তার ওয়াজ শুনতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করে।

“দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কেবল মাওলানা হিসাবেই সুপরিচিত নন, তিনি দুইবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। তার আরেকটি পরিচয় হল, তিনি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।”

এভাবে আসামির পরিচয় দেওয়ার পর বিচারক বলেন, “আজ এখানে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার রায় হচ্ছে না। দুই বারের সংসদ সদস্য বা জামায়াতের নেতা সাঈদীরও রায় দিচ্ছে না ট্রাইব্যুনাল।

“আজ যার রায় বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হচ্ছে, তাকে জানতে হলে আমাদের চল্লিশ বছর পেছনে তাকাতে হবে। তখন পিরোজপুরে সাঈদীকে মানুষ চিনত দেলু নামে।”

বিচারক বলেন, সেই সময়ের ৩০ বছরের যুবক সাঈদী ছিলেন রাজাকার বাহিনীর একজন সদস্য। উর্দু ভালো বলতে পারতেন বলে পাকিস্তানি সেনাদের সব অপারেশনেই তিনি তাদের সঙ্গে ছিলেন। যে ২০টি অভিযোগে সাঈদীর বিচার হয়, তাতে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ছিল।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে