এমপিদের আন্তরিকতায় উন্নয়ন তৃণমূলে পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩; সময়: ৯:১৩ অপরাহ্ণ |
এমপিদের আন্তরিকতায় উন্নয়ন তৃণমূলে পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদ সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলে উন্নয়নের ধারা তৃণমূলে পৌঁছেছে। রোববার সংসদে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের রেবেকা মমিনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সংসদ নেতা এ কথা বলেন। খবর- বাসস

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের রাজনীতি জনগণের কল্যাণে। রেবেকা মমিন বা আব্দুল কুদ্দুস তারা সব সময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আমাদের আশ্রয়ন প্রকল্পে রেবেকা মমিন জমি দান করে গেছেন। এই ধরণের মানসিকতা তাদের ছিলো। তাদের হারিয়েছি। এটা সত্যি কষ্টের বার বার আমাদের শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। আমাদের উন্নয়নের ধারাটা একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌছেছে। এটা সম্ভব হয়েছে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে এ কারণে। আজকে যাদের হারিয়েছি এবং সেখানে নতুন যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন- তাদের কাছে আবেদন থাকবে যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া-এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

সরকারের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করতে পেরেছি। বাংলাদেশকে আরও উন্নত করতে হবে। সেটা সকলকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সেবা করে যাবেন এটাই আমি চাই। মানুষের সেবা করাটাই সব থেকে বড় পাওয়া। এর চেয়ে বড় কিছু নেই। রাজনীতি নেতাদের জন্য এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আজকে যারা মারা গেছে তাদের অবদান রয়েছে, যে কারণে আমরা এতদূর আসতে পেরেছি।

সরকারি দলের দুই সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে রোববার সংসদে শোক প্রস্তাব তোলা হলে তা সর্বসন্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। এর আগে সংসদে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পর এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন মাদানী। পরে সংসদের বৈঠক সোমবার বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। চলতি সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি করা হয়।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমাদের সংসদের অধিবেশন শুরুই করতে হয় শোকপ্রস্তাবের মধ্য দিয়ে। ভেবেছিলাম এবার বোধহয় তার থেকে ব্যতিক্রম হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। এই সংসদের ২৮ জন সদস্য মৃত্যু বরণ করেছেন। যেখনে ২৬ জনই আওয়ামী লীগের। আর দুইজন জাতীয় পার্টির। এর মধ্যে কয়েকজন মহিলা সদস্যও রয়েছেন।

আব্দুল কুদ্দসকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আব্দুল কুদ্দুস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগ করতেন। তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। নাটোর ছিলো সন্ত্রাসের জায়গা। তিনি সেখানে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও তাকে জবরদন্তি করে হারানো হয়েছিল। তিনি জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেবেকা মমিনের সাথে আমার ছাত্রজীবন থেকে পরিচয় ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন ছাত্রী তিনি আমার পত্র বন্ধু ছিলেন। তিনি সবসময় চিঠি লিখতেন। আমিও উত্তর দিতাম। তিনি চিঠিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতেন। আমি কলেজে ভিপি হওয়ার পর চিঠি দিয়ে উৎসাহিত করেন। তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মতিউর রহমান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচত করতেন। কিন্তু আমরা যখন জোট করি তিনি তার আসনটি রেগম রওশন এরশাদকে ছেড়ে দেন। তিনি যে কত বড় নেতা ছিলেন- যে মুহুর্তে আমি তাকে বললাম, জোট করবো এই সিটটি ছাড়তে হবে। তিনি এক মুহুর্তের জন্যও আপত্তি করেননি। সঙ্গে সঙ্গে সিটটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। না হলে তিনি এখন ওই সিটের এমপি থাকতেন।

বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী হারিয়েছেন উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, তারা যে সংগ্রাম করে গেছেন। জেল-জুলুম অত্যাচার করছেন। জাতির পিতার পাশে ছিলেন। জাতির পিতাকে হত্যার পর তারা নানা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামণা করি।

শোক প্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে আরও আলোচনা করেন- সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওয়সিকা আয়শা খান, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাজ্জাদুর রহমান, শফিকুল ইসলাম শিমুল, আশরাফ আলী খান খসরু, আব্দুল আজিজ, মসিউর রহমান রাঙ্গা।

সরকারি দলের দুই এমপি ছাড়াও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মতিউর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সার, মোহাম্মদ উল্ল্যার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে। এছাড়া বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) সুলতান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সিরাজুল আলম খান, কবি মোহাম্মদ রফিক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো: আশরাফ আলী খান খসরুর স্ত্রী কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা, দৈনিব আজকের কাগজ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পদক জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শাহেদ আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদের পিতা কামাল উদ্দিন আহমেদ খান, কৃষিবিজ্ঞানী কাজী পেয়ারার উদ্ভাবক কাজী এম বদরুদ্দোজার মৃত্যুতে শোক জানানো হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের মাউইতে ভয়াবহ দাবানল, ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণ সংসদ শোক প্রকাশ করে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে