মান্দায় হিলনা বিল ইজারা নিয়ে বিপাকে মৎস্যজীবীরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৩; সময়: ৮:১২ অপরাহ্ণ |
মান্দায় হিলনা বিল ইজারা নিয়ে বিপাকে মৎস্যজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় ইজারা নেওয়া হিলনা বিলে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে চুরি করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওইসব ব্যক্তিদের ইন্ধনে অমৎস্যজীবী লোকজন বেড়জাল, কারেন্ট ও রিংজাল ব্যবহার করে হিলনা বিলের পোনা মাছ নিধন করছেন।

গত শনিবার রাতে বিলে মাছ শিকারের সময় ধাওয়া দিয়ে বেশকিছু নিষিদ্ধ জাল আটক করে থানায় জমা দিয়েছে মৎস্যজীবীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিহ্নিত ওইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বিলটি ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চৌজা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্যরা।

চৌজা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দরপত্র আহবান করা হলে হিলনা বিলটি বাংলা ১৪৩০ সনের জন্য ১১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নেয় চৌজা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। এর পর সমিতির সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার জন্য বিল সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়। এতে সমিতির সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৯ জন। এসব সদস্যদের অর্থায়নে বিলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে।

মৎস্যজীবী হাসান আলী বলেন, ইজারা নেওয়া বিলে মান্দা উপজেলার চৌজা, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পারিলাডাঙ্গা, রতনডাঙ্গা ও বিলপইন এবং তানোর উপজেলার দমদমা গ্রামের অমৎস্যজীবীরা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে পোনা মাছ শিকার করছেন। এরা কোনো মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যও নয়। ৩৫৪ দশমিক ৩৫ একর আয়তনের বিলটির বিপুল পরিমাণ খাস সম্পত্তি দখলে রাখতে ওইসব অমৎস্যজীবী প্রভাবশালী ব্যক্তি শুরু থেকেই বিলটি ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছিল।
চৌজা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজল প্রামাণিক বলেন, গত শনিবার গভীর রাতে চৌজা গ্রামের আব্দুর রশিদ, ইমরান হোসেন, আশরাফুল, বাবুসহ অজ্ঞাতনামা লোকজন বিলে বেড়জাল, কারেন্ট ও রিংজাল দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন। সংবাদ পেয়ে ধাওয়া দিলে জালগুলো ফেলে তাঁরা পালিয়ে যায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

ফজল প্রামাণিক আরও বলেন, মাছ শিকারে বাধা দেওয়ায় শনিবার রাতে গ্রামের হাসান আলী নামে এক মৎস্যজীবীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় মান্দা থানায় এজাহার দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সমিতির সহসভাপতি সোহরাব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিলটি ইজারা নেওয়া হলেও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ হচ্ছে না। এতে সমিতির সদস্যরা বেকায়দায় পড়েছেন। আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়বেন তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির মুন্সীর মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে