তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বে শমসের-তৈমূর

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩; সময়: ৫:১৮ অপরাহ্ণ |
তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বে শমসের-তৈমূর

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সাবেক বিএনপি নেতা প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রতিষ্ঠিত দল তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন শমসের মবিন চৌধুরী এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। মঙ্গলবার রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তৃণমূল বিএনপির জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক কূটনীতিক শমসের মবিন একসময় বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। আর বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার ছিলেন দলটির চেয়ারপারসের সাবেক উপদেষ্টা। তাদের পাশাপাশি দলটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অন্তরা হুদা নির্বাচিত হয়েছেন এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন। মোট ২৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় তৃণমূল বিএনপির।

গত ফেব্রুয়ারিতে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক পেয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার তিনদিন পর তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হুদা মারা যান। এরপর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা হুদা।

কাউন্সিলে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘দেশে যে লুটপাট হচ্ছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগের এমপিরা প্রতিটি এলাকায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই দলে লুটেরা ভূমিদস্যুদের জায়গা হবে না। আমি দীর্ঘদিন বিএনপিতে ছিলাম। খালেদা জিয়ার সুস্থ ও মুক্ত জীবন কামনা করি। আমি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। তারপরও সব প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি। অনেকদিন হয়েছে আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। যেহেতু বিএনপির সাথে তৃণমূল বিএনপির মিল রয়েছে তাই এখানে যোগ দিয়েছি।’

শমশের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার যত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে তার পক্ষে থাকবে তৃনমূল বিএনপি। আমরা শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। লগি-বৈঠা তাণ্ডব চাই না। আবার গাড়ি পোড়ানো চাই না। নির্বাচন কমিশন যদি ভালো ভাবে কাজ করতে পারে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। আমরা একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল, আমরা কিংস পার্টি নই – পিপলস পার্টি।

২০১৫ সালে শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর ২০১৮ সালে বিকল্পধারায় যোগ দেন। নির্বাচনের আগে বিকল্পধারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই সময় জোটের মনোনয়ন না পেয়ে সিলেট-৬ আসনে বিকল্পধারার কুলা প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে নামলেও পরে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানান শমসের মবিন।

তৈমূর আলম খন্দকার ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সক্রিয় ছিলেন। এ জন্য মামলা-হামলার শিকার, এমনকি জেলেও থাকতে হয়েছে তাকে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে দেড় বছর আগে দল থেকে বহিষ্কার হন তৈমূর। এরপরেও তিনি বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদনও করেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি তার সাবেক দল।

তৃণমূল বিএনপির কাউন্সিলে অন্তরা হুদা শমসের মবিন ও তৈমূর আলমকে তৃণমূল বিএনপিতে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আশা করি-তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দল আরও গতিশীল হবে। তাদের এ যোগদানে তৃণমূল বিএনপি তথা আমার প্রয়াত বাবা দেশ গড়ার স্বপ্ন আরও এগিয়ে যাবে।

নাজমুল হুদা তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন ২০১৫ সালের শেষ দিকে। তার আগে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার পর আরও তিনটি দল গঠন করেছিলেন। ২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)’ নামে একটি দল গঠন করেন তিনি। পরে সেই দল থেকে তাকে বহিষ্কার করেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

নাজমুল হুদা ২০১৪ সালের ৭ মে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট’ নামে একটি জোট গঠন করেন। একই বছরের ২১ নভেম্বর তিনি ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি’ নামে একটি দল গঠন করেন। আরও একটি নতুন দল গঠন করেছিলেন এ রাজনীতিক।

নাজমুল হুদা সবশেষ ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে দলটি। সে সময় নিবন্ধন না পাওয়ায় আইনি লড়াইয়ে যায় তৃণমূল বিএনপি। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন দেয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে