চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের মৃত্যু

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৩; সময়: ১:১৪ অপরাহ্ণ |
চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের মৃত্যু

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : অবসরের ১০ মাস পর মারা গেছেন চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। চীনের সাংহাইয়ে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন লি কেকিয়াং। গত বছরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেন।

সিসিটিভি জানিয়েছে, কেকিয়াং সাংহাইয়ে বিশ্রামে ছিলেন। এ সময় বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর তাকে বাঁচাতে সকল ধরনের প্রচেষ্টা করা হয়। এমনকি সকল প্রচেষ্টা সত্বেও বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

লি কেকিয়াং ১৯৫৫ সালের ১ জুলাই তারিখে আনহুয়েই প্রদেশের তিংইউয়েন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আনহুই প্রদেশের একজন স্থানীয় কর্মকর্তা ছিলেন।

তিনি ১৯৭৪ সালে স্কুল শিক্ষা শেষ করেন এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ে বিশেষ গ্রাম কর্মসূচিতে অবদান রাখতে ঐ প্রদেশের ফেংইয়াং জেলায় প্রেরিত হন।

এই কর্মসূচিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে লি লি কেকিয়াং ঐ অঞ্চল থেকে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়নাতে যোগদান করেন এবং অঞ্চলটির উৎপাদন বিষয়ক দলপ্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাও সেতুংয়ের চিন্তাধারার ওপর বিশেষ পারদর্শিতার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি পুরস্কার লাভ করেন।

তরুণ অবস্থায় লি লি কেকিয়াং স্থানীয় জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তার বাবার দেয়া প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ও আইন বিষয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।

পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি কমিউনিস্ট ইয়ুথ লিগের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক পদ লাভ করেন। ১৯৮২ সালে তিনি কমিউন্সট ইয়ুথ লিগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ঘোষিত হন এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে প্রবেশ করেন।

১৯৯৩ সালে লি লি কেকিয়াং কমিউনিস্ট ইয়ুথ লীগের মহাসচিব মনোনীত হন এবং ছয় বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০১৩ সালে চীনের প্রধানমন্ত্রী হন।

কিছুটা উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত এই নেতা চীনের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসরে পরিবর্তন আনতে কাজ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা ছিল।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের অনেকে এই প্রশিক্ষিত অর্থনীতিবিদকে নিয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নানাভাবে তার ক্ষমতা খর্ব করে দিয়েছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে