ইমরানকে ঠেকাতে সব অস্ত্রই ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪; সময়: ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ |
ইমরানকে ঠেকাতে সব অস্ত্রই ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফলে ২৫০ আসনের মধ্যে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি আসনে জয় পেয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে পিটিআইয়ের শক্ত অবস্থান বিশ্বব্যাপী নতুন বার্তা দেবে।

জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের পাল্লা ভারী। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ পিএমএল এন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে পিপিপি পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ আসনে জয় পেয়েছেন তার সমর্থিত প্রার্থীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইমরানের তুমুল জনপ্রিয়তার কারণেই পিছিয়ে পড়তে হয়েছে পাকিস্তানের রাজনীতির দুই প্রভাবশালী দল পিএমএল এন ও পিপিপিকে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশ পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর বড় প্রভাব রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী নওয়াজ শরিফ বলে বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে ছিল গুঞ্জন। তবে সেই সেনাবাহিনীকেই টক্কর দিয়ে বেশি আসন জিতেছে ইমরান খান সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যা এবারের নির্বাচনে বড় চমক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে, এ পথ এত সহজ ছিল না তাদের জন্য। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রতিটি নির্বাচনেই সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ইমরান খানের সামনেও অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। দলের অনেক নেতাও বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি। মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন অনেক নেতা।

বৈরী এই পরিস্থিতির মধ্যেও চমক জাগানো ফলের বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, কারাবন্দি ও আত্মগোপনে থেকেও ডিজিটাল মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন নেতারা। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে অনেকেই অজ্ঞাত স্থান থেকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে জনসমর্থন আদায় করতে পেরেছেন ইমরান সমর্থকরা।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সরকার ও জনপ্রশাসন নীতিবিষয়ক সহকারী অধ্যাপক মায়া টুডোর বলেছেন,

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যান্য প্রতিটি নির্বাচনেই সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ইমরান খানের সামনেও অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। পিটিআইয়ের ক্ষমতা খর্ব করতে সেনাবাহিনী তাদের প্রতিটি অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পিটিআইয়ের দলীয় প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট বাতিল করা থেকে শুরু করে ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করাসহ সবকিছুই তারা করেছে।

এত কিছুর পরও পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা যদি জয়ী হতে পারেন, তাহলে তাদের সামনের পথও দুর্গম হবে বলে মনে করছেন অধ্যাপক মায়া টুডোর।
তিনি বলেন, নাজুক অর্থনীতি, প্রায় সব সীমান্তে সংঘাত, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি-এসবই এখন সাধারণ পাকিস্তানিদের সামনে রয়েছে। নির্বাচনে কেউ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এসব সমস্যার সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে