৫ বছরেও তদন্ত সম্পন্ন হয়নি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলার

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪; সময়: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ |
৫ বছরেও তদন্ত সম্পন্ন হয়নি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : পাবনার ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হলেও হত্যার রহস্য ও মূলহত্যাকারী এখনো শনাক্ত হয়নি।

২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির তিনি উপজেলার পাকশীর রূপপুরে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম উপজেলার পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) পাবনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম পাকশী থেকে মোটরসাইকেলে তাঁর নিজ বাড়ি চররূপপুরে ফিরছিলেন। ওই রাতে নিজ বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে চিৎকার দিলে বাড়ি থেকে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

হত্যাকান্ডের পরপরই পুলিশ ওই রাতে পাকশীর চররূপপুরে আসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমের বাড়ির সামনে থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।

পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় তাঁর ছেলে তানভির রহমান তন্ময় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের ছেলে রকি বিশ্বাস, ভাতিজা আরজু বিশ্বাস, রাজীব ও লিখনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই চারজন আদালত থেকে জামিন পান।

প্রয়াতের ছেলে তানভীর রহমান তন্ময় পাঁচ বছরেও তাঁর পিতা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলার তেমন অগ্রগতি দেখছি না। আমরা চাই দ্রুত মামলাটির তদন্ত সম্পন্ন এবং আসামি গ্রেপ্তার। কেন দেরি হচ্ছে বুঝে পাচ্ছি না। অবিলম্বে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঈশ্বরদী থানা সুত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যা রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) পাবনা। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই সেলিম হত্যা রহস্য উদঘাটনে তদন্তের দায়িত্ব পায় সংস্থাটি। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় সাড়ে চার বছর অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা জানাতে পারেনি পিবিআই।

যোগাযোগ করা হলে পিবিআই পাবনা ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার মো: ফজলে এলাহী বলেন, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে। এরইমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছি আমরা।

আগের তথ্যও আছে। তবে খুনের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে আমাদের জোর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি নিয়ে আমাদের উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণও রয়েছে। আশা করছি এবছরের মধ্যেই হয়তো মামলাটি তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম রাজা বলেন, খুনের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন- আমরা সেলিম হত্যাকান্ডের মূল আসামী গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে