পেঁয়াজ কলি বিক্রি করে লাখোপতি কৃষকরা!

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৪; সময়: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ |
পেঁয়াজ কলি বিক্রি করে লাখোপতি কৃষকরা!

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মাদারীপুরে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ ঘরে তোলার আগেই কলি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন কৃষকরা। প্রতিবছর পেঁয়াজ কলি ফেলে দিলেও এবার তা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন তারা। এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিসহ কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়ার কথা জানালেন স্থানীয় এক কৃষি কর্মকর্তা।

মাদারীপুরের কালকিনির লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম মুন্সি ও জালালপুরের কৃষক হোসেন মোল্লা। পাশাপাশি ফসলি জমি তাদের। কয়েক বিঘা জমিতে প্রতিবছর পেঁয়াজ চাষ করে কলি ফেলে দিতেন। কিন্তু এবার পাইকাররা মাঠ থেকে সরাসরি কিনে নিচ্ছেন পেঁয়াজ কলি। দামও পাচ্ছেন ভাল। তাই মুখে আনন্দের হাসি তাদের।

একই অবস্থায় কালকিনি ও শিবচর উপজেলার অধিকাংশ চাষি। কদিন বাদে নতুন পেঁয়াজ ঘর তুলবেন তারা। তার আগেই কলি বিক্রি করে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। এতে পরিবারে ফিরছে সচ্ছলতাও।

চাষি আবুল কালাম মুন্সি বলেন, প্রতি বছর কলি ফেলে দিতাম। এবার মাঠ থেকেই কলি বিক্রি করছি। এতে ভালই লাভ হচ্ছে।

আরেক চাষি হোসেন মোল্লা বলেন, কলি এমনিতেই পেঁয়াজ থেকে কেটে ফেলতে হয়। তা নাহলে পেঁয়াজ বড় হয় না। সেই কলি বিক্রি করে এবার পরিবারের সচ্ছলতা ফিরেছে।

জসিম মৃধা নামে এক চাষি জানান, প্রতি কেজি কলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫-১২ টাকায়। ফসলের মাঠ ও সড়কের আশপাশে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ন্যায্যদামেই কিনছেন কলি। যা চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ খুলনা ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায়। ফলে জসিম মৃধা মনে করছেন, ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর এখান থেকে কলি পাইকারি কিনে নিলে কৃষকদের ভাল হবে।

একই অবস্থা ফড়িয়া ব্যবসায়ীদেরও। তেমনই একজন বাবুল মহাজন জানালেন, ক্রেতাদের চাহিদা মতো কলি সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলার হাটবাজারে বিক্রি করে থাকেন তারা। এতে ভালো লাভ হচ্ছে। সামনের বছর পরিকল্পনা করে এ ব্যবসায় নামবেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে পেয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর পোকা দমনে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিতে কাজ করছে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা। জেলায় গত বছর ৪ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৫২ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন। এবার ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ১২ মেট্রিক টন।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামার বাড়ি) উপ-পরিচালক সন্তোষ চন্দ চন্দ্র জানান, কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের পরামর্শ প্রদান করায় ও দিক নির্দেশনা দেয়ায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা কলি থেকে যেমন লাভ করতে পারছেন, তেমনি পেঁয়াজ থেকেও এবার বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে