নির্বাচনে অংশ নিতে মরীয়া বিএনপির নেতারা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৪; সময়: ১২:১২ অপরাহ্ণ |
নির্বাচনে অংশ নিতে মরীয়া বিএনপির নেতারা

বিশেষ প্রতিবেদক : একের পর এক নির্বাচনের বর্জনের করলেও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করা নিয়ে ধোঁয়াশা করে রেখেছে বিএনপি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি কৌশলী অবস্থান নিবে- এমনটি অনেক নেতারা মনে করেন। তবে এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসার আগেই ভোটের মাঠে নেমে গেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা অনেকটাই নির্বাচন করতে মরীয়া হয়ে উঠেছেন।

আবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনেও গোপনে ভোটের মাঠে নেমেছেন বিএনপি নেতারা। অনেকেই বলছেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পর নেমে যাবেন ভোটের মাঠে, আবার অনেকেই বলছেন কেন্দ্র থেকে ‘না’ বলা হলেও নির্বাচনে অংশ নিবেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার থেকে সরে এসেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। তাই উন্মুক্ত মাঠে লড়াইয়ের স্বাদ নিতে চান বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হয়। দলটি ২০২১ সালের মার্চের পর থেকে সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। বরং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

এর আগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বা ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তা সত্ত্বেও দলটির তৃণমূলের অনেক নেতা সেসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে দেড় শতাধিক প্রার্থী বিজয়ীও হয়েছেন।

এদিকে, দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে আগ্রহী তৃণমূলের অনেক নেতা। তাই দলের কেউ প্রার্থী হলে তাকে নিরুৎসাহ করা হবে না। দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় ফোরামে এখনো আলোচনা হয়নি।

বিএনপির তৃণমূল নেতারা মনে করেন, স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের জনপ্রিয়তা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন আর স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তৃণমূলের অনেক নেতার এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকবে। এতে বিএনপির অনেক নেতার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে বিএনপির হাইকমান্ড অটল থাকলেও চট্টগ্রাম বিভাগের কমপক্ষে ৩০ জন বিএনপি নেতা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাঁরা বিগত সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁরা নির্দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবেন। শুধু চট্টগ্রাম বিভাগ নয়, সব জায়গায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে তৃণমূল বিএনপি।

অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও দলের সাবেক দুই নেতা মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২২ সালে কুসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন তারা। সাক্কু ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আর কায়সার কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কুসিক মেয়র আরফানুল হক রিফাত। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, ওই পদে আগামী ৯ মার্চ ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে।

কুমিল্লার নেতারা বলছেন, বহিষ্কারের ভয়ে এই দুই নেতার অনুসারীরা এবারের উপনির্বাচনে প্রকাশ্যে না থাকলেও গোপনে রয়েছেন ভোটের মাঠে। বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া জানান, মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার দল থেকে বহিষ্কৃত। ওই বহিষ্কারাদেশ এখনও প্রত্যাহার হয়নি। উপনির্বাচনে তাদের পক্ষে দলের কেউ প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামলে কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির একজন নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

বন্দর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল বলেন, উপজেলা নির্বাচন করবো ইনশাআল্লাহ। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছে। আশা করি সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে পাস করবো।

স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে না গেলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকে না। এছাড়া সংগঠনগুলোকেও শক্তিশালী করা যায় না। তাই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিলে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়। আমি মনে করি, উপজেলা, পৌরসভা, মেয়র, ইউপি সব স্থানীয় নির্বাচনেই বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলাল জানান, তৃণমূলের অনেক নেতাই নির্বাচন করার জন্য আগ্রহী। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। দল যদি নির্বাচনের যাওয়ার অনুমতি দেয় তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে