বাঘায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪; সময়: ৭:০০ অপরাহ্ণ |
বাঘায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাঘা : মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কৃতজ্ঞচিত্তে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহীর বাঘায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ মিনারে ফুলের ডালা নিয়ে হাজির হন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি সামাজিক সাাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা ১ মিনিটে দলবদ্ধ হয়ে একের পর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। লাল-সাদা-হলুদ-বেগুনিসহ কত বাহারি রঙের থোকা থোকা ফুলের স্তবকে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন ও শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সবার মুখেই ধ্বনিত হচ্ছিল বিষাদমাখা একুশের সেই চিরচেনা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’।

প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির পক্ষে ও উপজেলা পরিষদ। পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা আওয়ামী লীগ, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় পার্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,নাটোর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২, ফায়ার সার্ভিস,আনসার ভিডিপি, বাঘা প্রেস ক্লাব,অফিসার ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন ।

উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার তরিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল আলম, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল,অধ্যক্ষ নছিম উদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম মন্টু,ওয়াহিদ সাদিক কবীর,মাসুদ রানা তিলু, আব্দুল কুদ্দুস, মামুন হোসেন, বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলী, জাতীয় পার্টির মইদুল ইসলাম-আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আশাদুজ্জামান, নাটোর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর ডিজিএম সুবীর কুমার দত্ত, আনসার-ডিডিপির অফিসার মিলন দাস, বাঘা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিঞা,সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান, আখতার রহমান, লালন উদ্দীন, সাইদুল ইসলাম, আব্দুল কাদের নাহিদ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান,রাজনৈতিক , সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি’২৪) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রভাত ফেরীসহ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেও দিবসটি পালন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় প্রভাতফেরি পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা শেষে কুইজ প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরুষ্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তার বলেন,ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে না হতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার কেড়ে নিতে উদ্ধত হয়। কিন্তু বীর বাঙালি প্রতিবাদী হয়ে বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত করে রাজপথ। প্রতিষ্ঠা করে মায়ের ভাষা। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে।

এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাঘা পৌরসভার মেয়র ও জেলা আ’লীগের সদস্য আক্কাছ আলী,সহকারি কমিশনার (ভূমি)জুয়েল আহমেদ,অফিসার ইনচার্জ(ওসি)আমিনুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল আলম,বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতা,মোকাদ্দেস আলী, অধ্যক্ষ নসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী বেলাল হোসেন প্রমূখ। পরে মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন,আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতা, মোকাদ্দেস আলী,ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামসহ, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি, জৃনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধীজন।

কৃতজ্ঞতায় ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, ফুল দিয়ে স্মরণ করেছেন শাহদৌলা সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কলেজ শহীদ মিনারে ভাষা বীরদের শ্রদ্ধা জানান তারা। অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক আব্দুল হানিফ মিঞার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ড.জান্নাতুল ফেরদৌস দীপা,সহকারি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম,প্রভাষক মাসুদ রানা,প্রভাষক আহমেদ বেলাল প্রমুখ।

বক্তব্যকালে তারা বলেন,পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা যখন অন্যায়ভাবে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাঙালির ওপরে চাপিয়ে দিতে উদ্যত হয়েছিল, তখন বাঙালি ফুঁসে উঠেছিল প্রতিবাদে, বিক্ষোভে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল করে এগিয়ে যেতে থাকলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়। সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এরপর থেকেই জাতি শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে মহান শহীদ দিবস পালন করে আসছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে