রংপুরে ৫ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪; সময়: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ |
রংপুরে ৫ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রংপুরের কাউনিয়ার হারাগাছ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব নাজিরদাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মরা তিস্তা নদীর ওপরে সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বর্ষার সময় ছোট নৌকায় নদী পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। দুর্ভোগ লাগবে দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।

প্রায় ১০ বছর আগে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য তৈরি করেন বাঁশের সাঁকো। সাঁকোটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে বাস কাঠ ও অর্থ সংগ্রহ করে মেরামত করে যাতায়াতের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সাঁকোটি অতিদ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে প্রতি বছরই মেরামত করতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

এদিকে ২০২১ সালে হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়েনে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাশেই আরেকটি ব্রিজ তৈরির জন্য ইট সিমেন্টের সিঁড়ি ও অ্যাঙ্গেল দিয়ে ব্রিজের অবকাঠামো তৈরি করে রেখে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্রিজটির কাজ শেষ না হওয়ায় আগের বাশের সাঁকোটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন ব্রিজ না হওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হারাগাছের চরাঞ্চলের ৫ গ্রামের মানুষের দুঃখ মরা তিস্তার এ শাখা নদীটি। হারাগাছ পৌরসভাসহ ৪ ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে তিস্তা রেলসেতু পয়েন্টে গিয়ে মিলিত হয়েছে মরা তিস্তা নদীটি। নৌকা আর বাঁশের সাকোই এলাকাবাসীর ভরসা। ভোটের আগে জন প্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্ররুতি দিলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় মো. মোশারাফ হোসেন ও গাজিয়ার রহমান জানান, নদীর ওই পারে ২টি বাজার, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসা রয়েছে। সেতু না থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্কুলপড়ুয়া শিশুদের যাতায়াতে চরম বিপাকে পড়তে হয়।

খালিলুর রহমান জানান, সেতু না থাকায় পার্শ্ববর্তী চিনাতুলি, ঠিকানার হাট, পূর্ব নাজিরদাহ, বল্লভবিষূ, ও গ্রামের শিক্ষার্থীসহ প্রায় অর্থ লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ গ্রামগুলোতে আলু, ভুট্টা, ধান, পাট, গম, মরিচ ও বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হয়। এসব কৃষিপণ্য হাট বাজারে নিতে হলে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয় অথচ পূর্ব নাজিরদাহ ঘাটে ব্রিজ নির্মাণ হলে অর্ধেক পথ কমে আসবে, সেই সাথে এলাকার কৃষকরা পাবে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্যে।

পূর্ব নাজিরদাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মিয়া জানান, সেতু না থাকায় স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার করতে হয়। বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রীরা জানায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে খুব কষ্ট হয়। সবাই বলে নতুন সাঁকো হবে কিন্তু হয় না। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারাগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যার রাজু আহম্মেদ জানান, ব্রিজটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বাকি কাজ আগমী এক মাসের মধেই শেষ করব। ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ সংকটের কারণে কাজটি সঠিক সময়ে করতে পারি নাই। আশা করছি, নতুন বছরেই ব্রিজটি উদ্বোধন করতে পারব। ব্রিজটির কাজ শেষ হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এর সুফল পাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে