১৯ বছর পর লাভের মুখ দেখছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৪; সময়: ৫:১৯ অপরাহ্ণ |
১৯ বছর পর লাভের মুখ দেখছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালপুর : নির্ধারিত লক্ষমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৬০০ মে.টন বেশী আখ মাড়াই করে রবিবার ভোরে ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত করেছে নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস।

অধিক পরিমানে আখ মাড়াই করায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবছর লাভের মুখ দেখছে চিনিকলটি। তবে কি পরিমান লাভ হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। চিনিকলে ১শ ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার চিনি মজুদ।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ আখ মাড়াই মোসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার মে.টন আখ মাড়াই করে ১২ হাজার ২শ ৫০ মে.টন চিনি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে গত বছর ১০ নভেম্বর চিনিকলটি আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করে। ১১৪ কার্যদিবসে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬শ ৩৩ মে.টন আখ মাড়াই করে প্রায় ১০ হাজার ৭শ মে.টন চিনি উৎপাদন করে রবিবার ভোর চার টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে আখমাড়াই কার্যক্রম বন্ধ হয়।

চিনি আহরনের হার ছিল ৫.৬৪ শতাংশ। চিনিকলটিতে সাড়ে ৯ হাজার মে.টন চিনি মজুদ রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১শ ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মিলে আখ সরবরাহ বাবদ আখচাষীদের পাওনা রয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

গত বছর (২০২২-২৩ আখমাড়াই মৌসুমে) আখের অভাবে মাত্র ৫২ দিনের মাথায় মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আখমাড়াই হয়েছিল ৮১ হাজার ১২৯ মে.টন। চিনি উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৮শ ৭ মে.টন। পর্যাপ্ত আখের অভাবে ২০০৫ সাল থেকে চিনিকলটি ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আসছিল।

এবছর প্রশাসনের সহযোগীতায় মিল এলাকায় পাওয়ার ক্রাশারে (অবৈধ আখমাড়াই যন্ত্র) আখমাড়াই বন্ধ রাখতে পারার কারণেই চিনিকলটির আখ মাড়াই লক্ষমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন জানান, গত ১০ বছরের ইতহাসে এ বছরই প্রথম প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ মে.টন আখ মিলের কারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৩-২৪ আখ রোপন মৌসুমে মিল এলাকায় ১৭ হাজার ৫০০ একর জমিতে আখ রোপন করা হয়েছে। আশাকরা যাচ্ছে আগামী আখ মাড়াই মৌসুমেও চিনিকলে আখসংকট দেখা দেবে না।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খবির উদ্দিন মোল্যা জানান, দেশের ৯টি চিনিকলে যে চিনি উৎপাদন হয়েছে তার ৩৫ ভাগ চিনি উৎপাদন হয়েছে এই চিনিকলে। মিল এলাকায় পাওয়ার ক্রাশার বন্ধে প্রশাসন, আখচাষী সহ সকলের সহযোগীতা ও চিনিকলের সর্বস্তরের কর্মকর্তা শ্রমিক-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এবছর লাভের মুখ দেখছে চিনিকলটি। তবে কি পরিমান লাভ হবে তা চুড়ান্ত হিসাব না করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে