শিবগঞ্জে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের আবেদনকারী নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৪; সময়: ৯:২৮ অপরাহ্ণ |
শিবগঞ্জে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের আবেদনকারী নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধের জন্য আবেদনকারী এক নারীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে পুকুর খননকারী আজিজুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। লাঞ্ছিতের শিকার ওই নারী মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের আজমুল হকের স্ত্রী সায়েরা বেগম ও অবৈধ পুকুর খননকারী একই এলাকার মৃত আবেসন মুন্নার ছেলে আজিজুল হক।

সরজমিনে জানা গেছে, উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর মৌজার ১১৯৯ ও ১২০০ দাগের প্রায় ৫ বিঘা সমতল জমিতে আমবাগান কেটে ফেলে পুকুর খনন করার জন্য ড্রেজার নিয়ে আসেন আজিজুল হক। এ নিয়ে বুধবার স্থানীয়রা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করলে ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে আসেন এবং ড্রেজারের যন্ত্রাংশ নিয়ে যান। এরপর থেকে আবেদনকারী সায়েরা বেগমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আজিজুল হকসহ তার অনুসারিরা আবেদনকারী ওই নারী সায়েরা বেগম ও তার ছেলেকে শুক্রবার বেধড়ক মারধর করেন। এছাড়া ওই নারীসহ স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন আজিজুর হক ও তার অনুসারিরা।

জানা গেছে, উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামটি ঘনবসতি এলাকায়। এ এলাকায় মধ্যস্থানে একটি ছোট পুকুর রয়েছে। পুকুরটি সংস্কারের নাম করে আরো প্রায় ৫ বিঘা সমতল জমি কেটে পুকুর সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া করছে। ফলে পুকুরটি সম্প্রসারণ হলে বসতবাড়িগুলোর ক্ষতিগ্রস্থ হবে দাবি এলাকাবাসীর। তবে এই পুকুরটি আগামী ১০ বছরের জন্য আজিজুল হকসহ চারজন অবৈধভাবে পুকুর খননকারী প্রায় ২৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে লাঞ্ছিতের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, আমরা এই এলাকায় প্রায় ৫০-৫৫টি বাড়ি প্রায় ২০ বছর থেকে বসবাস করছি। দীর্ঘদিন বসবাস করার পর হঠাৎ করে সমতল জমি কেটে পুকুর করতে যাচ্ছে তারা। এখানে পুকুর হলে আমাদের চারপাশের বাড়ি-ঘর পুকুরে নেমে যাবে।

এছাড়া আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা খেলাধুলা করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। পুকুরটি হলে রাস্তায় চলাচলের অনেক সমস্যা হবে। তাই আমি এলাকাবাসির স্বার্থে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেছিলাম, যেনো এখানে অবৈধভাবে পুকুর খনন না করতে পারে। সেই সুবাদে আজিজুল হকের স্বার্থে ব্যাঘাত হওয়ায় আমাকে ও আমার ছেলে মারধর করেছে। তবে আজিজুল হক বলেন, আমি নামাজ পড়ে বাসায় আসছিলাম। পথের মধ্যে আমাকে একা পেয়ে সায়েরা বেগম ও তার ছেলে বিভিন্ন গালাগালিজ করে। প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে টানাহেঁচড়া করে। এ সময় আমাকে বিভিন্ন লাঠিসোঠা দিয়ে মারধর করে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং থানায় অভিযোগ করেছি। আমি তাদের মারধর করিনি। পুকুরটি টেন্ডার নিয়েছি, পুকুর খনন করবো। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন জানান, উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে পপুকুর খনন করতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়া হয়েছে। যদি ফের পুকুর খনন করতে কেউ যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া মারামারির ঘটনাটি আইনী বিষয়। এখানে আমার কোন মন্তব্য নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে