যুদ্ধ-সংঘাত: অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ দেশগুলো

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৪; সময়: ১২:০০ অপরাহ্ণ |
যুদ্ধ-সংঘাত: অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ দেশগুলো

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-সংঘাত ব্যাপক মাত্রায় বিস্তৃতির মূলে রয়েছে বৃহৎ শক্তিগুলোর ক্ষমতার লড়াই ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে তারা নিজেদের ও মিত্রদের অস্ত্র ভান্ডার শক্তিশালী করছে।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে ও গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র একাই। বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্র বাণিজ্য চালু রাখা ও আঞ্চলিক আধিপত্য ধরে রাখতে যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধে যথেষ্ট উদ্যোগী নয় পশ্চিমাবিশ্ব।

ইউক্রেনে রুশ অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ; কোরীয় উপদ্বীপ, দক্ষিণ চীন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি- সব মিলিয়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে পুরো বিশ্বে।

আধিপত্য ধরে রাখার লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাজোটের প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া-চীন ও ইরান। প্রত্যেকেই বাড়াচ্ছে নিজ নিজ সামরিক শক্তি ও অস্ত্রের মজুদ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, এবারই সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৫টি ভৌগোলিক অঞ্চলে বেড়েছে এই ব্যয়।

শীর্ষ ৫ দেশের তালিকায় সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র. এরপর চীন, রাশিয়া, ভারত ও সৌদি আরব। বাইডেন প্রশাসন ২০২৩ সালে সামরিক খাতে ৯১ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার খরচের ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় মিত্র জোট- ইউরোপীয়ান ন্যাটো। ৩১ সদস্য দেশের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ডলার। প্রশ্ন ওঠে এতো বিপুল অর্থ কোথায়-কিভাবে খরচ করে পশ্চিমা বিশ্ব?

উত্তর খুব স্পষ্ট ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহের চিত্রে। দুই বছরে ইউক্রেনকে ৬ হাজার ৯শ’ কোটি ডলারের অস্ত্র দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ৭ মাসে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞে ইসরায়েলকে দেয় ১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র। বিশ্বে ৯০ ভাগ অস্ত্র উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ-সংঘাতের জেরে ২০২৩ সালে রেকর্ড ২৩ হাজার ৮শ’ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে দেশটি।

বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-সংঘাত চললেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাণিজ্য চালু থাকে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বের হয়ে আসে নেপথ্যের খবর। জানা যায়, সামরিক সহায়তার অর্থ সরাসরি কোনো দেশে পাঠানো হয় না, ওই অর্থ দিয়ে তৈরি হয় নতুন অস্ত্র। পাঠানো হয় মজুদ থাকা অস্ত্র। ৯০ শতাংশ অর্থই আবার ফিরে পায় যুক্তরাষ্ট্র।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো প্রধান ক্রিস হেজেসের মতে, কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করলেই পুরো বিশ্বে থেমে যাবে যুদ্ধ-সংঘাত।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, যুদ্ধ-সংঘাতের পেছনে আঞ্চলিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের স্বার্থ জড়িত। রাশিয়াকে দমাতে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদান কিংবা চীনের বিপরীতে ইন্দো-প্যাসিফিকে জাপানকে শক্তিশালী করা- এমনই প্রচেষ্টার অংশ।

বিশ্বের বৃহৎশক্তিগুলোর এই ক্ষমতার লড়াইয়ের মূল্য বরাবরই নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোকে দিতে হয়। তাই যুদ্ধে বন্ধে তাদের জোরালো দাবির পক্ষে বাড়ছে সমর্থন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে