এনায়েতপুরে দরীদ্র কৃষক আয়নালের ফসল কেটে ধানকাটা উৎসব শুরু গ্রামবাসীর

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৪; সময়: ৬:৪০ অপরাহ্ণ |
এনায়েতপুরে দরীদ্র কৃষক আয়নালের ফসল কেটে ধানকাটা উৎসব শুরু গ্রামবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : পাকতে শুরু করেছে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের ফসলী জমির বোরো ধান। শীলা বৃষ্টি না হওয়া ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলনের আশাবাদে এনায়েতপুর মন্ডল পাড়ার কৃষকেরা এবার ব্যতিক্রমী আয়োজনে শুরু করেছে ধানকাটা উৎসব। গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে দরীদ্র কৃষক আয়নাল হকের জমির ফসল কেটে বাড়িতে তুলে দেয়ার মধ্যে দিয়ে ধানকাটা উৎসবের শুভ সুচনা হয়।

শনিবার সকাল ৮টায় গ্রামবাসীর ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঐ কৃষকের ১৪ শতাংশ ধান কাটতে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেয় ৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৮০ জন কৃষক। মাত্র ১৫ মিনিটে কেটে সাবার করা এ ধান সবাই মাথায় করে কৃষক আয়নালের বাড়িতে পৌছে দেয়াই শেষ ছিলনা। পরে তা মাড়াই করে রৌদে শুকিয়ে গোলায় তুলে দেয়া হয়। এ কাজে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল অন্যরকম উৎসব আমেজ। স্থানীয় আইসিএল স্কুল কর্তৃপক্ষের দেয়া টিশার্ট পরে নেচে-গেয়ে চলে এই ধানকাটা উৎসব। এ আয়োজনটি কৃষকদের মাঝে যেমন একটি আত্তিক বন্ধনের সুচনা করেছে।

তেমনি মানুষের কাছ থেকেও মিলেছে উৎসাহ উদ্দিপনা ও সাড়া। পরে কাজ শেষে ছিল কৃষকদের জন্য গরমভাতের সাথে আলুভর্তা, ডাল ও পটল ভাজির আয়োজন। এ শুভ সুচনার মধ্যে দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৭শ থেকে ৮শ বিঘা গ্রামটির ধান কাটা হবে বলে জানালেন ধান কাটা উৎসবের আয়োজক নুর আলম মন্ডল, মাহমুদুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন মন্ডল। তারা জানান, আমাদের পুর্ব পুরুষেরা অতীতে জমির ধান-পাট, সরিষা জমি থেকে তুলতে গায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ নিত। কারো আবার হঠাৎ বানের পানি এসে ফসল তলিয়ে যাবার উপক্রম হলেও সকলে তা কেটে দিত। অর্থাৎ এক অপরের পাশে থাকবে এটাই ছিল নিয়ম। তবে কিছুটা এমন উদ্যোগের ভাটা পড়লেও আমাদের প্রচেষ্টা থেমে নেই। তাই আয়নালের ধান সবাই মিলে কেটে ঘরে তুলে দেয়ার মধ্যে দিয়ে ধানকাটা উৎসবের শুভ সুচনা করেছি। এতে আমরা সবাই আত্বতৃপ্ত হয়েছি। এভাবেই গ্রামের মানুষের সব বিপদে-আপদে আমরা এক থাকবো বলে শপথ নিয়েছি।

এদিকে দরিদ্র কৃষক আয়নাল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রচন্ড গড়মের কারনে কৃষি শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর। মজুরিও অনেক। বর্তমানে দুরাবস্থার কথা জেনে গ্রামের কৃষকেরা এসে ধানকাটায় পাশে দাঁড়ানোয় আমি চির কৃতজ্ঞ সবার প্রতি।
এদিকে দীর্ঘ দিন পর এমন আয়োজনের প্রথা নতুন করে চালুর মাধ্যমে সবার মাঝে হৃদ্রতার বন্ধন আরো সুদৃহ হবে বলে প্রত্যাশা ধানকাটা উৎসবে জড়িত কৃষকদের।

ধান উৎপাদনে সারপ্লাস জেলা সিরাজগঞ্জ লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ১ লাখ ৪১হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ৬ লাখ ৫ হাজার ২৭২ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সুত্রধর জানিয়েছেন, এনায়েতপুর মন্ডলপাড়ার কৃষকদের উদ্যোগ অনন্য উদাহারন। এক কৃষকের পাশে আরেক কৃষক দাঁড়ালে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃহ হয়। আমি তাদের উদ্যোগের প্রতি সম্মান জানাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে