সাকিবদের অপেক্ষায় নিউইয়র্ক

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৪; সময়: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ |
খবর > খেলা
সাকিবদের অপেক্ষায় নিউইয়র্ক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক:  নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামের আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। ১ ও ১০ জুন জনতার ঢল নামবে বলে ধারণা স্থানীয় প্রবাসীদের। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য অন্তত তাই মনে করেন।

তিনি গতকাল ফোনে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীরা দলে দলে নিউইয়র্ক আসার পরিকল্পনা করছেন। কারণ বাংলাদেশ দলের দুটি ম্যাচ রয়েছে এই শহরে। একটি ১ জুন ভারতের বিপক্ষে গা গরমের ম্যাচ। এই ম্যাচের জয়-পরাজয় বিশ্বকাপে কোনো প্রভাব ফেলবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় ১০ জুনের ম্যাচটি আসল। তাপস জানান, এই ম্যাচ দুটি ঘিরে উৎসবের একটা বাতাবরণ তৈরি হয়েছে নিউইয়র্কে। সাকিব আল হাসানদের বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় তারা।

নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণ নতুন। সমুদ্রের পাড়ে ক্যারিবীয় স্টেডিয়ামের ছাপ রয়েছে গ্যালারিতে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু হলেও নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়াম একখণ্ড ‘মিনি অস্ট্রেলিয়া’। এই ভেন্যুর জন্য পিচ, কিউরেটর, প্রযুক্তি সবই অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের ভেন্যু প্রস্তুত করতে ড্রপ ইন উইকেট বসানো হয়েছে। ‘মালটি স্টোর্টস’ খেলা হওয়া মাঠগুলোতে ড্রপ ইন উইকেটের প্রচলন অস্ট্রেলিয়ায়। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা ডারউইনে খেলা হয় বিশেষ এই উইকেটে।

নিউইয়র্কের জল-হাওয়ায় এ ধরনের উইকেট কতটা খাপ খাবে, জানা নেই ক্রিকেটারদের। এ নিয়ে তাপসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দল যখন খেলবে, তখন লং আইল্যান্ডে ঠান্ডা থাকবে। এ ধরনের আবহাওয়ায় ক্রিকেট খেলার মজা আছে। যে স্টেডিয়ামে খেলা হবে, তার আউটফিল্ড মসৃণ। পিচ, ঘাস সবই অস্ট্রেলিয়ার। আমার মনে হয় ভালো খেলা হবে। তবে পিচের আচরণ কেমন হতে পারে, তা বলা কঠিন। ‘টাইট উইকেট’ হলে রান হবে। একটু ‘লুজ’ হলে স্লো থাকবে। উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বুঝতে পারবেন খেলোয়াড়রা।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়েই স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন হবে। সেদিক থেকে একটা বাড়তি গুরুত্ব আছে ম্যাচটির। গা গরমের ম্যাচ হলেও বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে নিচ্ছে। উভয় দেশের সমর্থকরা খেলা দেখবে। ভালো দিক হলো নিউইয়র্কের মানুষ বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছে।’

ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামটি পুরোনো। একসময়ের বেসবল স্টেডিয়ামকে কয়েক বছর হলো দখল নিয়েছে ক্রিকেট। বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার গোলাম নওশের প্রিন্স জানান, অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর দুই বছরের যত্নে গড়া গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে রান হয়। মেজর লিগের ফাইনাল খেলা হয়েছে এখানে। যুক্তরাষ্ট্রের এ ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ লিগের ম্যাচগুলোতে বড় স্কোর দেখা গেছে।

নওশেরের মতে, ‘এই মাঠে নিয়মিত খেলা হয়। মেজর লিগের ম্যাচ দেখে আমার মনে হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হলে বাংলাদেশকে বড় রান করতে হবে। জয়-পরাজয়ের বেশির ভাগ নির্ভর করবে ব্যাটারদের পারফরম্যান্সের ওপর।’

এবারের টি২০ বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে ডালাসের এই গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়াম থেকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ম্যাচ দিয়ে। নেদারল্যান্ডস-নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের ম্যাচের পর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। হিউসটনের তিন ম্যাচের সিরিজ, ডালাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্প নিশ্চয়ই সহায়ক হবে বাংলাদেশের জন্য। গতকাল থেকে সে মিশনই শুরু হয়েছে হিউসটনে তিন ঘণ্টার ক্রিকেটীয় অনুশীলন দিয়ে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে