ছাত্রী মেসে গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগ

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৪; সময়: ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ |
ছাত্রী মেসে গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক:  টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) এলাকায় ছাত্রীদের একটি মেসে গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগের যথাযথ বিচার না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন। পরে তারা প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে।

ছাত্রীদের অভিযোগ, সন্তোষ ঘোষপাড়া এলাকার সরকার বাড়ির মেস মালিকের ছেলে কৌশলে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাথরুমের ভেতর মোবাইল ক্যামেরা স্থাপন করেন। এক পর্যায়ে তা দেখে ফেলেন চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী। ক্যামেরা দেখে তিনি চিৎকার করেন। বাইরে এসে মেসের অন্য মেয়েদের নিয়ে ক্যামেরা আসলো কী ভাবে তা দেখতে তারা ছাদে যান। সেখানেই দেখতে পান মেস মালিকের ছেলে তুহিন সরকারকে। এ ঘটনায় মেসে অবস্থানরত ছাত্রীরা দিশেহারা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি দ্রুত নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানকে জানায় ছাত্রীরা। পরে চেয়ারম্যান বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে জানাতে বলেন। পরে গত ৮মে প্রক্টরিয়াল বডিকে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী।

প্রক্টর অফিসে দেয়া অভিযোগ পত্রে তিনি জানান, ‘আমি সন্তোষ ঘোষপাড়ার হানিফ সরকারের ছাত্রী মেসের পঞ্চম তলায় ছিলাম। গত ৭মে জরুরি প্রয়োজনে মেসে আসার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোসলে ঢুকি। গোসলরত অবস্থায় বাথরুমের জানালায় আমি লাঠি জাতীয় কিছুর সঙ্গে একটি ফোনের ক্যামেরার দিকটা বাধা অবস্থায় দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক আমি মেসে যারা ছিল তাদের সবাইকে একসঙ্গে চিৎকার করে ডেকে খুঁজে দেখতে বলি যে ছাদে কেউ আছে কি না, যখন সবাই ছাদে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে তখন তারা বুঝতে পারে কেউ লুকানোর চেষ্টা করছে, সিঁড়ি ঘরে ট্যাংকের পিছনে। যখন সবাই বুঝতে পারে এবং তাকে বের হয়ে আসতে বলে তখন সে কোনো শব্দ ছাড়া শুয়ে পড়ে, অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর সেখান থেকে বাড়িওয়ালার ছেলে তুহিন সরকার বের হয়ে আসে এবং পুরো বিষয়টিকে অস্বীকার করে। তখন তার পরিবারকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় খোঁজাখুজি করলে একটি লাঠি দড়ি বাঁধাসহ ট্যাংকের পাশে খুঁজে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বর্তমানে মেসে অবস্থানরত মেয়েরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে এই ভয়ে যে, এই লোক এই ধরনের ভিডিওগ্রাফি কতদিন ধরে করছে? কত মেয়ের অপ্রীতিকর ভিডিও এর আগে করা হয়েছে। এই মেসে অবস্থানরত মেয়েরা সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান মেসে অবস্থানরত মেয়ে শিক্ষার্থীরা।’

এ ঘটনা জানাজানির পর ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গত ১৯ মে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপর্যুক্ত শাস্তির দাবিতে ভিসি কার্যালয়ে অবস্থান নেন। তারপরেও সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত মেসে থাকা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের মালামালসহ তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রক্টর অফিসের সামনে আন্দোলন করতে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ভুক্তভোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার আলোচনায় বসবেন এমন শর্তে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, এ ঘটনায় শনিবার কোন প্রতিকার না পেলে আমরা আবারও অবস্থান কর্মসূচিতে যাবো।

এদিকে ওই মেস থেকে যে সকল ছাত্রী জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে এসেছে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সাময়িকভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর (দায়িত্বরত প্রক্টর) শাকিল মাহমুদ শাওন কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে মোবাইল ফোনে কোনো মন্তব্য করবো না। শনিবার এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে