রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার ম্যুরাল নির্মাণ কাজ বন্ধ

প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৪; সময়: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ |
রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার ম্যুরাল নির্মাণ কাজ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদা না দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে এই ম্যুরাল নির্মাণ করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঠিকাদার কাজ করতে পারছেন না। এ নিয়ে পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে পাউবোর রাজশাহী সদর শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুকেশ কুমার বোয়ালিয়া মডেল থানায় এই জিডি করেছেন। জিডিতে বলা হয়, রোববার বেলা ১১টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি প্রধান ফটকে আনসার সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এতে ৪০ জন শ্রমিক তাদের কাজ বন্ধ করে চলে যান। সোমবারও ভয়ে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেননি। নিরাপত্তার সংকটে ঠিকাদার কাজ শুরু করার সাহস পাচ্ছেন না।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার এই ম্যুরাল নির্মাণের কাজ করছে রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খন্দকার কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাসান কবির। তিনি দেশের বাইরে আছেন। তার প্রতিনিধি মো. পলাশ বলেন, ১০ দিন আগে তারা কাজ শুরু করেছেন। এর পর থেকেই বিহারি কলোনি, শালবাগান, উপশহর ও সপুরা এলাকার একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী চাঁদা দাবি করে আসছে।

তাদের দাবি, তারা সংখ্যায় ২৫ জন। সামনে ঈদ উপলক্ষে তাদের ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দেওয়ায় রোববার তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। এর এক সপ্তাহ আগেও তারা পাউবো কার্যালয়ে ঢুকে হাঙ্গামা করেছিল। চাঁদা না দিলে আগুন দিয়ে পাউবোর এই কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলেন তারা সেদিন হুমকি দেন।

ঠিকাদারেরা জানান, পাউবো অফিস ঘিরে থাকা এই সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কর্মকর্তারা। রেহাই পান না ঠিকাদারেরাও। এই সন্ত্রাসীরা পাউবো অফিসের আশপাশেই সব সময় আড্ডা দেন। মাদক সেবনও করেন প্রকাশ্যে। আর চাঁদা দাবি করেন ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের কাছে। চাঁদা না দিলে তাঁদের হাতে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঞ্ছিতও হতে হয়।

পাউবোর রাজশাহী ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহাফুজুল আলম লোটন বলেন, ‘এক সপ্তাহে আগে আমি পাউবো অফিসেই ছিলাম। সেখানেই এই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তারা পাউবো অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এটা দেখে তো আমি ভীষণ অবাক হই। এখন শুনছি তারা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল নির্মাণের কাজটাই বন্ধ করে দিয়েছে চাঁদা না দেওয়ায়।’

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, ‘বিষয়টা আমি শুনেছি। এটা জঘন্যতম একটা কাজ করেছে। যারা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল নির্মাণের কাজে বাধা দিয়েছে, আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘জিডি হওয়ার পর সোমবার সকালে আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাউবো অফিসে পাঠিয়েছিলাম। তিনি খোঁজখবর নিয়ে এসেছেন। কারা চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধ করেছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে