কুমিল্লার রসমালাই পেল জিআই পণ্যের স্বীকৃতি

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৪; সময়: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ |
কুমিল্লার রসমালাই পেল জিআই পণ্যের স্বীকৃতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক:   কুমিল্লার রসমালাই পেল জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি। সম্প্রতি দেশের চারটি পণ্য জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুষ্টিয়ার তিলের খাজা এবং বাংলাদেশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল। এর আগে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যটির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। এদিকে জিআই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে পণ্যটি বিদেশে রপ্তানির পথ প্রসারিত হলো। এখন রসমালাইয়ের মান বৃদ্ধিতে যথাযথ নজরদারি করবে জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, কুমিল্লার রসমালাই শতবর্ষেরও বেশি ঐতিহ্য নিয়ে স্বাদের জায়গাটি ধরে রেখেছে। কুমিল্লা রসমালাইয়ের আদি উদ্ভাবক ত্রিপুরা রাজ্যের ঘোষ সম্প্রদায়। ১৯ শতকের প্রথম দিকে ত্রিপুরা থেকে ঘোষ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে চাহিদা অনুযায়ী এ অঞ্চলের লোকদের বাহারি রকমের মিষ্টি সরবরাহ করতেন। সে সময় রসগোল্লার সঙ্গে মালাইকারির প্রলেপ দেওয়া এক রকম মিষ্টির প্রচলনও ছিল।

১৯৩০ সালের দিকে এই রসগোল্লার আকার ছোট করে দুধের ক্ষিরের মধ্যে ডুবিয়ে পরিবেশন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে এর নামকরণ হয় রসমালাই। আর ওই সময় থেকেই ক্ষণীন্দ্র সেন কুমিল্লার মিষ্টি ব্যবসায় রসমালাই বানিয়ে পরিচিতি পেতে থাকেন। পরবর্তীতে মাতৃভাণ্ডার নামের প্রতিষ্ঠানে ক্ষণীন্দ্র সেনের সন্তান মুক্তিযোদ্ধা শংকর সেনগুপ্তের হাত ধরে কুমিল্লা রসমালাইয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। বর্তমানে মাতৃভান্ডারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন প্রয়াত শংকর সেনগুপ্তের ছেলে অনির্বাণ সেনগুপ্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী চাকরিতে না গিয়ে মিষ্টান্ন ব্যবসায় শামিল হন।

কুমিল্লার রসমালাইয়ের জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্তিতে অনির্বাণ কুমিল্লা জেলা প্রশাসনসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমরা রসমালাইয়ের গুণগত মান বৃদ্ধিতে সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু ব্যবসা নয়, আমাদের চেষ্টা থাকে পণ্যটির ঐতিহ্য ধরে রাখা। তিনি বলেন, কুমিল্লার রসমালাই একদিকে যেমন কুমিল্লার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি সুস্বাদু মিষ্টি হিসাবে বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। আর জিআই সনদের স্বীকৃতি এই পণ্যটির প্রসার আরও বাড়াবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, একটি পণ্য চেনা ও জানার জন্য জিআই স্বীকৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন রসমালাইয়ের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। জিআইয়ের পর সনদপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে এই পণ্যের স্বীকৃতি মিলেছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি কুমিল্লার রসমালাই জিআই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এটির বৈশ্বিক স্বীকৃতি মিলেছে। জিআই হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রথমত এই পণ্যটি কুমিল্লার বলে চিহ্নিত হলো। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে পণ্যটির বাণিজ্যিকীকরণের সুবিধা বাড়ল। এই রসমালাই এখন রপ্তানি করা যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, রসমালাই উৎপাদনে মানের উন্নতি হবে। কেননা জিআই স্বীকৃতি পণ্যের মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যের ভান্ডার অনেক প্রাচীন। রসমালাইয়ের পর আমরা কুমিল্লার খাদি, বিজয়পুরের মৃৎশিল্প নিয়ে জিআই পণ্য হিসাবে অনুমোদনের জন্য কাজ শুরু করব। এছাড়াও কুমিল্লার বরুড়ার লতি, হোমনার শ্রীমদ্দির বাঁশি নিয়েও পরবর্তীতে এগিয়ে যাব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে