পুলিশ কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত কাজে’ বাহিনীর গাড়ি

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৪; সময়: ৩:২৫ অপরাহ্ণ |
খবর > জাতীয়
পুলিশ কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত কাজে’ বাহিনীর গাড়ি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ২০২০ সালে নাভানা গ্রুপের পক্ষ থেকে রাজধানীর গুলশান থানা পুলিশকে একটি গাড়ি উপহার দেওয়া হয়। ওই গাড়িতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লোগোযুক্ত স্টিকার ও সিগন্যাল হুডার ছিল। গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় প্যাট্রল ডিউতে প্রথমে গাড়িটি ব্যবহার হয়। তবে কিছুদিন পর পুলিশকে দেওয়া সেই গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার শুরু করেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ শাহানুর রহমান। এরই মধ্যে বদলে ফেলা হয়েছে সেই গাড়ির কাঠামো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পুলিশকে যানবাহন উপহার দিলে সেটি সরকারি সম্পদ হয়ে যায়। ওই গাড়ির তেল এবং মেরামতের খরচ সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু নাভানার দেওয়া গাড়িটি শেখ শাহানুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে আসছেন। দীর্ঘ দিন গাড়িটি তাঁর শাহজাদপুরের বাসার গ্যারেজে ছিল। অধিকাংশ সময় গাড়িটি তাঁর স্ত্রী ব্যবহার করেন। শাহানুরের স্ত্রী ইভা রাজধানীর ভাটারা থানায় উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

সমকালের হাতে আসা একটি ছবিতে দেখা যায়, গুলশান থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসানের কাছে গাড়ির চাবি হস্তান্তর করছেন নাভানা গ্রুপের দুই কর্মকর্তা। ওই দুই কর্মকর্তার একজন হলেন আরফাদুল রহমান বান্টি। তিনি বর্তমানে ওরিয়ন গ্রুপে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার বান্টি সমকালকে বলেন, ‘করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে ২০২০ সালে পুলিশকে নাভানা গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনটি গাড়ি দেওয়া হয়। তার মধ্যে একটি ‘এক্সিও’ ব্র্যান্ডের গাড়ি পুলিশের গুলশান বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে আরেকটি গাড়ি দেওয়া হয়।’ তিনি জানান, চট্টগ্রামের পুলিশকে একটি গাড়ি উপহার দেওয়ার পর তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ ডিএমপিকে গাড়ি দেওয়ার অনুরোধ করেন। আরফাদুল রহমান বান্টি বলেন, ‘গুলশান থানায় দেওয়া গাড়িটি কিছুদিন রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে। পরে আর ওই গাড়ি চোখে পড়েনি।’

থানার কনস্টেবল মো. মোতালেবকে দিয়ে নাভানার ওয়ার্কশপে গাড়িটি পাঠানো হয়। কাস্টমার আইডিতে গাড়ির মালিকের পরিচয় হিসেবে শেখ শাহানুর রহমানের নাম ও তার মোবাইল ফোন নম্বর লেখা রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কনস্টেবল মোতালেব বলেন, ‘শাহানুর স্যার বলার পর গাড়ি মেরামত করতে নাভানার ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম।’

গাড়িটির বিষয়ে পরিদর্শক শাহানুর রহমান বলেন, ‘এই গাড়ির তেল খরচ ট্রান্সপোর্ট শাখা থেকে দেওয়া হতো না। তাই গাড়িটি প্রায় অচল অবস্থায় ছিল। ব্যাটারি যাতে বসে না যায়, তাই মাঝে মাঝে চালু করতাম।’ সরকারি গাড়ি কেন নিজ পরিচয়ে মেরামত করতে গেলেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নাভানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে আমার পরিচয় রয়েছে। তাই গাড়ির ব্যাটারি ঠিক করার জন্য কনস্টেবলকে পাঠাই। কয়েক বছর পার হওয়ায় লোগো উঠে গেছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২০ সালে ডিএমপি কমিশনার ছিলেন শফিকুল ইসলাম। কোনো কোম্পানির কাছ থেকে উপহারের গাড়ি নেওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতেন তিনি। তাই নাভানার কাছ থেকে গাড়ি পাওয়ার পরও পুলিশের ফান্ড থেকে সেটির তেল খরচ ও সরঞ্জাম কেনার অনুমতি দেননি তৎকালীন কমিশনার। যদিও পুলিশে অনেক অনুদানের গাড়ি রয়েছে, যেগুলো সরকারি তেলে চলছে। তবে নাভানার দেওয়া গাড়িটি শুরু থেকে অন্য সরকারি যানবাহনের তেল সমন্বয় করে চলত। এর পর সেটি ব্যক্তিগত ও পরিবারের কাজে ব্যবহার শুরু করেন শাহানুর। ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে গত সোমবার গাড়িটি গুলশান থানায় এনে রাখা হয়। গাড়ি নিয়ে অনিয়মের ঘটনায় ডিএমপির ট্রান্সপোর্ট শাখা থেকে গুলশান বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে শুধুমাত্র গুলশান থানায়ই পিএসআই, এসআই, গুলশান ফাঁড়ির ইনচার্জ, পরিদর্শক (অপারেশন্স) পরিদর্শক (তদন্ত) পদে দায়িত্ব পালন যাচ্ছেন শাহানুর। এক থানায় এতো বছর ধরে কর্মরত থাকা পুলিশের চাকরিবিধির সঙ্গে সামঞ্জ্যপূর্ণ নয়।

গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে গাড়িটির তেল খরচের জন্য ডিএমপির ট্রান্সপোর্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছিল। সেটি পাস না হওয়ায় সরকারি খাতায় গাড়িটি নথিভুক্ত হয়নি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে