পুলিশের সামনে আ. লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, চেয়ারম্যানসহ কারাগারে ৯

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৪; সময়: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ |
পুলিশের সামনে আ. লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, চেয়ারম্যানসহ কারাগারে ৯

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি উপজেলার দিঘিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টঙ্গিবাড়ি উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম হালদারসহ ৯ আসামির জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হত্যা মামলার ৯ আসামি মুন্সিগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এ সময় আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কাজী আব্দুল হান্নান আসামিদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

কারাগারে প্রেরণ করা আসামিরা হলেন- টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পরিষদের নব- নির্বাচিত চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম হালদার, তার ছোট ভাই কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হালদার ওরফে খুকু, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার, নজরুল ইসলাম হালদার ওরফে নাজির হালদার, রাসেল হালদার, যুবরাজ হালদার, এইচএম বাবর সবুজ হালদার, আবু কাউছার সোহেল ওরফে আবু কাউছার, আনিছ হালদার।

আসামিরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে দুইটি পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে আগাম জামিন লাভ করে। জামিনের মেয়াদ শেষে বুধবার মুন্সিগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ও দিঘীরপার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি সোরহাব খানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার ছেলে জনি খানকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মান্নান খান বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী আমলী আদালত ৪-এ পিটিশন মামলা দায়ের করেন। ওই আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাস মামলাটি গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে টঙ্গীবাড়ী থানাকে এফআইআর হিসাবে গ্রহণ করার নির্দেশে দেন। পরে টঙ্গিবাড়ী থানা উক্ত মামলাটি এফআইআর হিসাবে গ্রহণ করে আসলাম হালদার ভোলা নামের আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। বুধবার উক্ত মামলায় ৯ আসামি জামিনের আবেদন করলে তাদেরও কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ৩ আসামি পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহতের ভাই মামলার বাদী মান্নান খান বলেন, এই মামলার অন্যতম দুই আসামি রিহান ও রিজভী এখনো পলাতক রয়েছে। এর মধ্যে একজন মালয়েশিয়া চলে গেছে। তারা আমাকে মুঠোফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাকে ১০০ কোপ দিবে বলছে। এছাড়া যে আসামিরা আজ কারাগারে গেলো তারাও আমাকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করছে। আজ আদালতের জজ সাহেব যে আদেশ দিয়েছে আমরা তাতে খুশি।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন বলেন, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোরহাব খান হত্যা মামলায় নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফ হালদারসহ ৯ জন আসামি উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আজ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে