রাতের আঁধারে পাউবোর মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি, ৬ মাসের কারাদন্ড

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৪; সময়: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ |
রাতের আঁধারে পাউবোর মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি, ৬ মাসের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের (পাউবোর) নিচ থেকে ভেকু (এস্কেভেটর)দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করার অভিযোগে দুলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে মাটি ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তার বাড়ি পাশ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার সাভার গ্রামে। এসময় মাটি পরিবহন কাজে ব্যবহৃত গাড়ির তিন চালককে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। তারা হলেন- আব্দুল্লাহ প্রামানিক, রুহুল আমিন ও রিপন কুমার হলদার।

বুধবার (৫ জুন) রাতে উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমীয়া আক্তার রোজী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই আদেশ প্রদান করেন।

সূত্র জানায়, উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিচ হতে প্রায় মাস খানেক ধরে ভেকু দিয়ে মাটি কাটছিলেন কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী। বাঁধের এসব মাটি তারা ফরিদপর এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিলেন।

অনেক গভীর করে সেখান থেকে মাটি কাটায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা সম্প্রতি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে সেখান থেকে মাটি না কাটতে নির্দেশ দেন।

এতে কয়েকদিন মাটি কাটা বন্ধ রাখলেও পুনরায় ভেকু দিয়ে সেখান থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটার কাজ আরম্ভ করেন তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও নাজমুন নাহারের নির্দেশে বুধবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমীয়া আক্তার রোজীর নেতৃত্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান শেষে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী দুলাল হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া মাটি পরিবহন কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চালক আব্দুল্লাহ প্রামানিককে ২ হাজার, রুহুল আমিনকে ৫ হাজার ও রিপন কুমার হলদারকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এ কাজে ভাঙ্গুড়া থানা-পুলিশের একটি দল তাকে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার(ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমীয়া আক্তার রোজী বলেন, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘন করায় উক্ত আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত ও এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া মাটি পরিবহন কাজে ব্যবহৃত গাড়ির তিন চালককে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দন্ডিত ব্যক্তিকে পুলিশের সহযোগিতায় পাবনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে