জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নরেন্দ্র মোদীই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৪; সময়: ৩:২৪ অপরাহ্ণ |
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নরেন্দ্র মোদীই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীকেই সমর্থন দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) নেতারা।

শুক্রবার পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে বৈঠকে এনডিএর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মোদীকে লোকসভার সংসদীয় দলের নেতা করার প্রস্তাব পাস হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন তারা।

এর ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। আর এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি।

বৈঠকে বিজেপির লোকসভা নেতা হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর নাম প্রস্তাব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাতে প্রথমেই সায় দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরে অন্যরাও সেই প্রস্তাবে সায় দেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনডিএ সংসদ সদস্যদের বৈঠক শুরু হয় স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায়। মোদীর নাম প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে ‘মোদী-মোদী’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরোনো পার্লামেন্ট ভবনের হলরুম।

বৈঠকে অংশ নেন তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) নেতা ও অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) নেতা ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, শিবসেনার নেতা ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্দে, এনসিপির নেতা অজিত পওয়ার, জেডিইউ নেতা এইচডি কুমারস্বামী প্রমুখ।

নরেন্দ্র মোদীর পাশেই বসেন চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতীশ কুমার। বৈঠক শেষে আসন ছেড়ে যাওয়ার আগে জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিকে নেতার সঙ্গে মোদী কিছু আলাপ সারেন বলে লিখেছে ইন্ডিয়া টুডে।

নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করে নাইডু বলেন, তিনি দূরদৃষ্টি ও উদ্যমী নেতা। আর তার রয়েছে অসাধারণ কর্ম বাস্তবায়ন ক্ষমতা।

‘তিনি সমস্ত নীতি সত্যিকারের চেতনার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছেন। তাই আজ ভারত রয়েছে সঠিক নেতৃত্বে। আর তিনিই হলেন নরেন্দ্র মোদী,’ বলেছেন নাইডু।

৪০০ আসন পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার ভোটের নামে মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ। কিন্তু গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে বিজেপি এবার সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে। ৫৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ২৯২ আসন, আর বিজেপি একা পেয়েছে ২৪০ আসন।

কিন্তু ১০ বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৭২ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩ আসন পায় বিজেপি একাই। ভারতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২ আসন।

গত দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করায় যে দাপট দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, এবার আর তা হচ্ছে না। মোদী হয়ে পড়েছেন নির্ভরশীল।

উত্তরপ্রদেশসহ বিজেপির বিভিন্ন ঘাটি হারিয়ে যাওয়ায় শরিকরা কতদিন পাশে থাকবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এনডিএ শিবিরে উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কার চোরা স্রোত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির সঙ্গে কঠিন দরকষাকষিতে নেমেছেন ভারতের রাজনীতির দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় চন্দ্রবাবু নাইডু ও নীতীশ কুমার। নাইডুর টিডিপি ও নীতীশের জেডিইউয়ের ২৮ আসনের সমর্থন ছাড়া বিজেপির সরকার গঠন করা অসম্ভব।

এই দুই নেতা নিজেদের দলের জন্য বিজেপির কাছে লোকসভার স্পিকার পদসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন। তবে কিন্তু কংগ্রেসের পুরোনো মিত্র নাইডু ও নীতীশের দাবি-দাওয়া নরেন্দ্র মোদী কতটা মেনে নিয়েছেন তা এখনো পরিষ্কার না।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে