বিদেশী জাতের আম চাষ করে সফল কৃষক আলীম মৃধা

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৪; সময়: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ |
বিদেশী জাতের আম চাষ করে সফল কৃষক আলীম মৃধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : জাপানী আমেরিকা ও ইউরোপের প্রায় ১০টি বিদেশী জাতের আম চাষ করছেন তার বাগানে। পরিত্যাক্ত যায়গায় দেশী বিদেশি জাতের আম এবং সাথী ফসল হিসেবে বাদাম চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। কৃষক আলীম মৃধা’র বারি মান্দা উপজেলায় হলেও সদর উপজেলার আনন্দনগর বাগবাড়ি এলাকায় প্রায় আট বিঘা জমিতে মিশ্র ফসল উৎপাদন করে ভাগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। স্থানীয় এলাকাবাসী এমন বিদেশী জাতের আম চাষ দেখে উৎসস্বিত ।

বাগানে ঝুলছে নানান বর্নের রঙীন আম । রাস্তা দিয়ে চলার পথে পথিকের চোখে পড়ে এমন রঙ্গীন আম । মিয়াজিকি, রেড-পালমার, কিউজাই, কিং অফ চাকাপাত, হ্যানী-ডিউ, সুর্যডিম,ব্লাক-স্টোন, হোয়াইট- স্টোন, ব্যানানা ম্যাংগো সহ প্রায় দশ জাতের বিদেশী আমের চাষ করছেন ।

আলীম মৃধা’র মান্দা উপজেলায় দেশী জাতের আমের বাগান থাকলেও ২০২২ সালে নওগাঁ সদর উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় স্থানীয় এক ব্যাক্তির কাছে থেকে প্রতি বছর ৯০হাজার টাকায় প্রায় আট বিঘা জমি লিজ নিয়ে দেশী ও বিদেশী জাতের আম চাষ করেন। সেখানে তিনি বিদেশী আমের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে উৎপাদন করছেন দেশী জাতের বাদাম। এছাড়াও বিদেশী জাতের সাথে তিনি দেশী জাতের বারি-৪ আম চাষ করছেন প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে। ফলন ভালো হওয়ায় বাড়তি লাভের আশা দেখছেন তিনি।

আলীম মৃধা জানান- নাটোর জেলার কৃষিবীদ মুঞ্জুরুল ইসলাম এর সহযোগীতায় এই বিদেশী জাতের আমের চারা সংগ্রহ করেন তিনি । এছাড়াও চাপাইনবাব গঞ্জ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়াস এবং বিত্ত্ববান কিছু এলাকার বাসীর কাছে থেকে আর্থিক সহযোগীতা ও কিশোরগঞ্জ জেলার এক আত্বীয়’র কাছে থেকে পরামর্শ নিয়ে ২০২২ সালে তিনি পরীক্ষামুলক ভাবে বিদেশী জাতের আম চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে গাছে ভালো মুকুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেন এবং দ্বিতীয় (এই) বছরে তিনি আশানুরুপ ফলন পান।

নওগাঁ জেলা ও সদর উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে কোন প্রকার পরামর্শ বা সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ এই কৃষকের। তার দাবি এই বিদেশী জাতের আম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকায় বেশী জনপ্রিয়। কৃষিবিভাগ থেকে এথবা কোন ব্যায়ার এর মাধ্যমে যদি তার এই আমগুলো বিদেশে রপ্তানী করা যায় তাহলে তিনি লাভোবান হবেন। তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানান এই এই বিদেশী জাতের আমগুলো যেন রপ্তানী করা যায় এমন ব্যবস্থা করার।

এদিকে এলাকাবাসী এমন রঙ্গীন জাতের আম কখনো দেখননি বা শোনেনও নি। তার বাগানে প্রবেশ করলে আমের রঙ এবং গঠন দেখলে ভালো লাগে। প্রতিদিনই তার বাগানে স্থানীয়রা ভীড় করেন রঙীন আম দেখতে। আম চাষী আমীল মৃধা এমন সফলতায় তাদেরও উদ্ভোধ্য করে এমন বাগান করতে।

অপরদিকে জেলা কৃষিবিভাগ জানিয়েছে- আর্থিক ভাবে কোন কৃষককে সহযোগিতা করার কোন নিয়ম নাই কৃষি অধিদপ্তরের। তবে কৃষক যদি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ চায় তবে সব সময় তা দেওয়া হয়ে থাকে। বিদেশী জাতের আম রপ্তানীতে নানান নিয়ম অনুসরন করতে হয় একজন কৃষককে। তবে রপ্তানীমুলক আম উৎপাদন হলে তার বাগানে বিদেশী জাতের আমগুলো রপ্তানীর’র জন্য সঠিক পরামর্শ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কৃষিবিভাগ এমনটাই বলছেন জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ আবুল কালাম আজাদ।

উৎপাদনে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা না পেলেও কৃষক আলীম মৃধা আশা রপ্তানীতে তাদের সহযোগিতা পাবেন। এ বছর নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার তিনশো হেক্টর জমিতে দেশী বিদেশী আমের আবাদ হচ্ছে। যার উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪লক্ষ ৩১ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন আম। যার বাজার মুল্য প্রায় ২হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে