আকাশযুদ্ধে চীন না যুক্তরাষ্ট্র, কে শক্তিশালী?

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৪; সময়: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ |
আকাশযুদ্ধে চীন না যুক্তরাষ্ট্র, কে শক্তিশালী?

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আকাশযুদ্ধে জয়ী হতে যুদ্ধবিমানের বিকল্প নেই। কিন্তু বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশের হাতে অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পর চীন তৃতীয় দেশ হিসেবে রাডারকে ফাঁকি সক্ষম এমন প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের মালিক।

২০১৭ সালে পঞ্চম প্রজন্মের এই জে-২০ যুদ্ধবিমান নিজেদের সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করে চীন। ধারণা করা হয়, চীনের সামরিক বাহিনীর হাতে প্রায় ২৫০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান রয়েছে।

জে-২০ যুদ্ধবিমানে বেশ কিছু সেন্সর রয়েছে। এটি চীনের সবচেয়ে দূরপাল্লার এয়ার টু এয়ার মিসাইল পিএল-১৫ বহনে সক্ষম। আকাশযুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোই জে-২০’র প্রাথমিক লক্ষ্য।

সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছে তিব্বতের শিঘাটে বিমানঘাঁটিতে জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গিয়েছিল। এরপরই ফের আলোচনায় আসে এই যুদ্ধবিমান। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটার জেট এফ-৩৫’র তুলনায় জে-২০ কতটা শক্তিশালী, তার একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে নিউজউইক।

চীনের জে-২০’র আনুষ্ঠানিক নাম চেংডু জে-২০ ফাইটার জেট। এই যুদ্ধবিমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫’র তুলনায় এটি পিছিয়ে বলেই মনে করেন কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের একজন রিসার্চ ফেলো কিম মিনসিউক। এফ-৩৫ এর তুলনায় জে-২০’র ইন্টারনাল ফুয়েল পেলোড বড়।

এর রেঞ্চ এফ-৩৫’র সমান বা কম হতে পারে। তবে জে-২০’র সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, এফ-৩৫’র মতো এই যুদ্ধবিমান ইন্টারনালি এয়ার-টু-গ্রাউন্ড বোমা বহন করতে পারে না।

জে-২০’র প্রাথমিক প্রোটোটাইপের জন্য ডব্লিউএস-১০ ইঞ্জিন ডিজাইন করা হয়েছিল। চীনের ডব্লিউএস-১০ ইঞ্জিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১০১ ইঞ্জিনের মতোই। তবে চীনের জেট ইঞ্জিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই ডেভেলপ করা হয়েছে।

তবে আরও আপগ্রেড করা জে-২০’র ডব্লিউএস-১৫ ইঞ্জিন শক্তিশালী হলেও মার্কিন ইঞ্জিনের তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে। ২০১৭ সাল থেকে গেল ৬-৭ বছরে জে-২০তে একাধিক আপগ্রেড করা হয়েছে।

জে-২০তে সর্বশেষ সংযোজন নতুন ও শক্তিশালী ডব্লিউএস-১৫ ইঞ্জিন। গেল বছর প্যারিস এয়ার শো শেষ হওয়ার চার দিন পর চীনের জে-২০ স্টেলথ ফাইটারের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ দেশে তৈরি দুটি ডব্লিউএস-১৫ ইঞ্জিন বসানো হয়েছে ওই ফাইটার জেটে। এ ব্যাপারে তখন মুখ খোলেনি দ্য অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না। যদিও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস, মুখে কিছু না বললেও সবাইকে দেখানোই উদ্দেশ্য ছিল বেইজিংয়ের। এর আগে ২০২২ সালে জে-২০’র পরীক্ষামূলক উড্ডয়নেও ডব্লিউএস-১৫ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে প্রাট অ্যান্ড হুইটনির F135 ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এফ-৩৫’র যে তিনটি ধরন রয়েছে, তার প্রতিটিতেই এই ইঞ্জিন রয়েছে।

প্রাট অ্যান্ড হুইটনির F135 ইঞ্জিন ৪০ হাজার পাউন্ডের বেশি থ্রাস্ট উৎপাদন করতে পারে। এফ-৩৫ এ লো-অবজারভেবল সিগনেচার, ওয়ার্ল্ড ক্লাস থার্মাল ম্যানেজমেন্ট এবং সর্বকালের সবচেয়ে উন্নত সমন্বিত ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

চীনের তৈরি জে-২০ যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫’র চেয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে পারে। তবে এফ-৩৫ রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। আবার জে-২০ তে কোনো ক্যানন নেই, এর মানে হচ্ছে, এই যুদ্ধবিমানকে ডগফাইটিং মেশিন হিসেবে ডিজাইন করা হয়নি। জে-২০’র তুলনায় এফ-৩৫ অনেক হালকা। তাই আকাশযুদ্ধে অনেকটাই এগিয়ে এফ-৩৫।

তবে জে-২০ ও এফ-৩৫ যেহেতু এখনও মুখোমুখি লড়াইয়ে জড়ায়নি তাই অত্যাধুনিক এই দুই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে এখনও জানার অনেক কিছু বাকি আছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে