কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে পুলিশের উপর এমপির ভাতিজাদের হামলা, আটক ৪

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৪; সময়: ৮:২২ অপরাহ্ণ |
কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে পুলিশের উপর এমপির ভাতিজাদের হামলা, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় সংসদের ভাতিজা ও তাদের সহযোগীদের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। হামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চরদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে। একটি মামলায় স্থানীয় এমপি’র দুই ভাতিজাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখার কারণে গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য পেতে দেরি হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, রবিবার গভীর রাতে চড়দিয়ার এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। এসময় ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ জুয়েল রানা নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এ খবর মাদক ব্যবসায়ীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার করা মাদক ও আসামীকে ছিনিয়ে নিতে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশের উপর হামলায় নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া ১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরীর দুই ভাতিজা। হামলাকারীরা ৩ পুলিশ সদস্যকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বেধড়ক মারপিট করে। এই দুই অভিযুক্তের আরেকজন চাচা দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলার খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও দৌলতপুর থানা পুলিশ সোমবার ভোররাতে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় জেলা গয়েন্দা পুলিশের এস আই জাহিদুজ্জামান জাহিদ, কনষ্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন ও কামরুল ইসলামকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

পরে সোমবার (১০ জুন) রাতে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর দুই ভাতিজা উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাকুন্ডি গ্রামের মৃত রবিউল চৌধুরীর ছেলে তুষন চৌধুরী (৩২) ও মিন্টু চৌধুরীর ছেলে আরজু চৌধুরীসহ (২৫) ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এস আই আলহাজ আলী। মাদক উদ্ধার ও আটকের ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পৃথক মামলায় উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি আশ্রয়ন এলাকার আব্দুল লতিফ দফাদারের ছেলে জুয়েল রানা (২১) ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় একই ইউনিয়ন চড়দিয়াড় এলাকার ছামিউল লস্করের ছেলে রনি ইসলাম (২২) ও মো. মান্না লস্কর (২০) এবং মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার মাহমুদ রাজিবকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, হামলা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাঁকী আসামীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, দৌলতপুর থানায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। মামলার ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, “আমাদের ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত অবস্থায় এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় এমপি ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের দুই ভাতিজা পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি খবরটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গত সংসদের এই দুই ভাতিজার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া ১ আসনের সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী ও দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য বারবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে