উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাড়ি ফিরছে নির্বিঘ্নে স্বস্তিতে

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৪; সময়: ৭:০৯ অপরাহ্ণ |
উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাড়ি ফিরছে নির্বিঘ্নে স্বস্তিতে

স্বপন মির্জা, সিরাজগঞ্জ : রাস্তা আগের থিকা অনেক বড় ওইছে। দিন যাইত্যাছে মানুষ যেবা ব্যারত্যাছে হেবা গাড়ীও ব্যাড়ত্যাছে। হ্যার নিগা সরকার রাস্তাও আরো বড় কইরত্যাছে। আগে ঈদে বাড়ি আইসপ্যার নিগা নিলে হাইরে কষ্ট ওইছে। এহন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাস্তা গুলা ২ লাইন থিকা ৪ লাইন ৬ লাইন করছে।

উড়াল রাস্তা ওইছে। হ্যার নিগা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর থিকা আসপাইর নিগা আর সমস্যা নাই। চকচকা ফাইন রাস্তা, জ্যাম নাই। আরামেই আসা যায়। মাত্র আড়াই-৩ ঘন্টায় ঢাকা থিকা আইল্যাম। আগে নাগছে ৭/৮ ঘন্টার মতন। আঙ্গরে দুঃখ ঘুইচা গ্যাছে।

ঢাকায় গাজীপুরে কাজ করা গার্মেন্ট কর্মী সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার গোপিনাথপুরের শফিকুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, রফিক হোসেন, গোপালপুরের আল আমিন শনিবার সকালে বাস থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় মহাসড়কের সয়দাবাদ মোড়ে নেমেই এমন উচ্ছাস প্রকাশ করে জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন।
তারা জানান, ঈদে সবাই একযোগে বাড়ি ফিরছে কিছুটা তো চাপ থাকবেই। চাপাচাপি করে আসলেও বাড়িতে সবার সাথে ঈদ করবো, সকলের খোঁজ খবর নেব এর চেয়ে আর বড় আনন্দের কিছু নেই।

এ সময় গাজীপুরের গার্মেন্ট কর্মকর্তা গোপীনাথপুরের ফারুক আহমেদ ও বেলকুচির কামারপাড়ার আল মামুন জানান, নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েই বাড়ির সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এসেছি। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড় চার লেনের কাজ চলমান থাকায় কিছুটা গাড়ির চাপে ছিলাম। তবে স্বাচ্ছন্দে নির্বিঘ্নে আমরা এবার বাড়ি ফিরতে পেরেছি। এজন্য সরকারের নানা উদ্যোগ ও জেলা পুলিশের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তা জুড়েই ছিল পুলিশ মোতায়েন। কোন গাড়িকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। সচেতনতায় তাদের ছিল মাইকে প্রচার প্রচারণাও। ধন্যবাদ সরকারকে।

তারা দাবী করে আরো জানান, ছুটি শেষে ফিরতি পথেও যেন আমরা নিরাপদে নির্বিঘ্নে কর্মে ফিরতে পারি এক্ষেত্রেও সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ দাবি করছি।

ঈদের এ সময়কালীন সহ সারা বছর যাত্রী পরিবহনে যারা ভূমিকা রাখেন সেই বাস চালকরাও নির্বিঘ্নে যাত্রী সেবা দিতে পেরে সন্তুষ্ট। এ ব্যাপারে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে আসা জেনিন পরিবহনের বাস চালক সাজু হোসেন, এসআই পরিবহনের বাস চালক ফরকান আলী ও জেনিন পরিবহনের এনায়েতপুরের টিকিট কাউন্টারের জহুরুল ইসলাম জানান, এর আগে তো অন্তত সিরাজগঞ্জ আসছে ছয় সাত ঘন্টা লাগতো। এখন স্বাভাবিকের মতই মাত্র ৩ সাড়ে ৩ সাড়ে ঘন্টায় সিরাজগঞ্জে আসা যাচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রাস্তায় পুলিশী পদক্ষেপের কারণে স্বস্তিতেই আমরা যাত্রী পরিবহন করছি।

এদিকে, সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ থেকে এনায়েতপুর গামী সিএনজি অটো রিকশা গুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুন, তিন গুণ বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যাত্রীরা।

অপরদিকে, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল জানান, সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক গুলো হয়ে উত্তর দক্ষিণ অঞ্চলে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিগ্নে পুরো ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়কে ৮ শতাধীক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোন ভাবেই গাড়ি গুলোকে নিয়মের বাইরে চলতে দেয়া হচ্ছে না। মানুষ একযোগে বাড়ি ফেরায় গাড়ির কিছুটা চাপ থাকলেও আমরা নির্বিঘ্ন রাখছি। ফেরা পথেও এভাবেই যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ ভুমিকা রাখবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে