কুষ্টিয়ায় যুবদল নেতার হামলা সাংবাদিক আহত, আটক ১

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৪; সময়: ৭:৩২ অপরাহ্ণ |
কুষ্টিয়ায় যুবদল নেতার হামলা সাংবাদিক আহত, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : বিএনপি ও যুবদল নেতার কর্মিদের হামলায় কুষ্টিয়ার সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু (৪৬) গুরুতর জখম হয়েছেন। পিটিয়ে তার দুই পা ও এক হাত ভেঙে দেওয়া দেওয়া হয়েছে।

এ নৃশংস হামলার ঘটনায় এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে বাবর আলী নামে ওই বিএনপি নেতাকে আটক করে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরসংলগ্ন হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারে রিজুর ওপর বর্বরোচিত হামলা করে সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রিজুর দুই পা ও বাম হাত গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া তার বুক ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

বাজারের একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় হকিস্টিক,  লাঠি ও ধারালো অস্ত্র হাতে দৌড়াতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজনকে। উৎসুক লোকজন দেখছে। সবার সামনে রিজুকে মারপিট করা হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার শেষে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকায় রেফার্ড করেন চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকার ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

রিজু কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় দৈনিক সত্য খবর পত্রিকার সম্পাদক। তিনি ভারত-বাংলাদেশ যুব মৈত্রী পরিষদ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি।

এদিকে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নেতা- কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। সাংবাদিক নেতারা দোষীদের ধরতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার আশ্বাসে সাংবাদিকেরা তাঁদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আহত রিজু বলেন ,হরিপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা শিপনের নেতৃত্ব ১৫ থেকে ২০ জন হামলায় অংশ নেয়। তারা হকিস্টিক,  লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আমাকে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। তাদের ভয়ে কেউ উদ্ধার করতে আসেনি। আমি হামলার বিচার চাই। সাংবাদিকদের তার পক্ষে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন।

রিজুর স্ত্রী টপি বিশ্বাস বলেন, তার স্বামী বিভিন্ন সময় এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে সংবাদ ছেপেছেন। এছাড়া হরিপুরে একটি স্কুলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রিজুর স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এসব নিয়ে হামলা হতে পারে। এ বিষয়ে সিসিটিভির একটি ফুটেজ পাওয়া গেছে।  হামলায় জড়িতদের অনেকের নামও বলেছে রিজু। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বলেন, হামলায় দুই পা ভেঙে গেছে, এছাড়া এক হাতের রক্তনালি কেটে দেওয়া হয়েছে।  মাথায় আঘাত আছে। এছাড়া সারা দেহে মারের চিহ্ন আছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ঘটনায় জড়িতদের এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আটক হয়েছে। হামলার পেছনে মাদক সংক্রান্ত বিষয় ও এলাকাভিত্তিক কোনো বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে