আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, রাজশাহী জেলার অনুষ্ঠানে ছিলেন না অতিথিরা

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৪; সময়: ৬:২৩ অপরাহ্ণ |
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, রাজশাহী জেলার অনুষ্ঠানে ছিলেন না অতিথিরা

তারেক রহমান : রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল প্রকাশ পায় চলতি বছরের ৯ মার্চ প্রতিমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় । তবে এবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে এ বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর পূর্তি প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ। সভায় প্রধান অতিথি ছাড়া উপস্থিত ছিলেন না বাকি তিনজন সম্মানিত অতিথি। এমনকি ছিলেন না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার সরকার ।

আলোচনা সভার ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ছিলো পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারার। সম্মানিত অতিথি করা হয় রাজশাহী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদকে । আর অনুষ্ঠানের সভাপতি করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার সরকারকে।

তবে প্রধান অতিথি ছাড়া অন্য কোনো অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এমনকি উপস্থিত ছিলেন না অনুষ্ঠানের সভাপতি নিজেও। পরে অনিল কুমার সরকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন ।

এদিকে সভায় বক্তারা বার বার উল্লেখ করেন সভাপতির কথা । বলেন, অনুমতি নিয়ে ব্যানারে তার নাম দেওয়া হয়েছিল অথচ আজ তিনি আসেননি। তিনি মাজার জিয়ারত করছেন। আলাদা প্রোগ্রাম করছে । কিন্তু নিজের জেলার প্রোগ্রামে আসেননি ।

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান আসাদ তার বক্তব্যে বলেন, দুর্ভাগ্য তার (জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ) তিনি নৌকার লোক হয়ে কাঁচি মার্কায় ভোট করেন। তাকে আমরা অনুরোধ করেছিলাম আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য কিন্তু তিনি থাকলেন না। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। তিনি শুনলেন কার কথা…?

তবে এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার মুঠফোনে জানান, আমার অনুমতি না নিয়েই আমাকে অনুষ্ঠানের সভাপতি করা হয়েছে। আমাকে এর আগে ৯ মার্চের প্রোগ্রামে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে অপমান করা হয়েছিলো। আজ আমি লক্ষ্মীপুরে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রোগ্রাম করেছি। সেখানে আমার সাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ ছিলেন ।

এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। এক পর্যায়ে ফোন কেটে দেন তিনি।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সামাদ বলেন, আমরা প্রোগ্রাম করার আগে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছিলাম। সেই সময়ে সভাপতিকে (অনিল কুমার সরকার) আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি বলেছিলেন তোমরা আয়োজন করো, আমি থাকবো। তবে কি কারণে তিনি আসেনি তা জানিনা ।

তিনি জানান, সম্মানিত অতিথি যাদের করা হয়েছিল তাদের মধ্যে শাহরিয়ার আলম দেশের বাইরে থাকায় আসতে পারেননি। ওমর ফারুক চৌধুরী এবং আবুল কালাম আজাদ নিজেদের সংসদীয় আসনে প্রোগ্রাম করার জন্য এখানে উপস্থিত হতে পারেননি।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, আমি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অথচ আজ জেলা আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে এসেছি। আর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি আজ তার অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে অন্য অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। আপনারা কি মনে করেন (উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে) এটা কি হওয়া উচিত ? আপনারাই বলেন এমনটা হবার কারণ কী?

এসময় তিনি প্রতিমন্ত্রী দারাকে লক্ষ্য করে বলেন, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে প্রধানমন্ত্রী আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনি সুসংগঠিত করতে কাজ করবেন। আর যারা এতে বাঁধা দেয় তাদের কথাও প্রধানমন্ত্রীর কানে আপনাকেই দিতে হবে।

অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনসহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারার পক্ষের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে