চারঘাটে ভয়াবহ লোডশেডিং কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৪; সময়: ৮:১৯ অপরাহ্ণ |
চারঘাটে ভয়াবহ লোডশেডিং কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট : ভয়াবহ লোডশেডিং এর কবলে রাজশাহীর চারঘাটবাসী আজ দিশেহারা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিন রাত সমান তালে চলছে লোডশেডিং। এতে কমলমতি শিশু ও অসুস্থ বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বেকায়দায় দিন পার করছেন চারঘাটের মানুষ। দিনের বেলায় বিদ্যুতের দেখা মেললেও রাতের বেলায় বিদ্যূত থাকে না বললেও চলে বলে দাবী এলাকাবাসীর। তবে বিদ্যুত বিভাগের দাবী চাহিদার চেয়ে বিদ্যূতের ঘাটতি বেশী থাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা জাতীয় সমস্যা বলে দাবী করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগ এর চারঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার সরকার।

জানা যায়, শতভাগ বিদ্যুায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষিত রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা। প্রতিটি বাড়ীতেই রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। তাই বিদ্যুতের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন এখানকার সব ধরণের শ্রেণী পেশার মানুষ। সেই শতভাগ বিদ্যূতায়িত উপজেলায় এখন বিদ্যূত যায় না, আসে মাঝে মাঝে। দিনের বেলায় বিদ্যুতের দেখা মেললেও রাতের বেলায় বিদ্যূত বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। এক দিকে প্রচন্ড তাপদাহ, অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘনঘন লোশেডিং। গরম আর বিদ্যূত বিভ্রাট জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। প্রচন্ড গরমে শিশুসহ বৃদ্ধরা হয়ে পড়ছেন অসুস্থ।

সরজমিন গত দুই দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, চারঘাটে এমনিতে চরম গরম পড়ছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদ্যূতের লোডশেডিং। দিনে বিভিন্ন গাছ পালার নিচে বসে গরম থেকে রক্ষা পেতে চেষ্টা করা হলেও রাত হলেই থাকে না বিদ্যুত। এ ছাড়াও প্রচন্ড গরমে এখন জ¦র,সর্দিতে ভুগছেন অনেকেই। প্রতিটি বাড়ী এখন অসুস্থ রোগীর বাড়ীতে পরিনত হয়েছে। অপর দিকে জ¦র, সর্দী ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেক রোগী।

উপজেলার কালুহাটি গ্রামের বাসিন্দা মজনু আহম্মেদ বাবু বলেন, দিনের বেলায় বিদ্যুতের দেখা পাওয়া গেলেও রাতের বেলায় থাকে না বিদ্যুত। এতে বাচ্চারা লেখা পড়াসহ দৈনন্দিন কাজও করতে পারছে না। রাত হলেও এলাকা ভুতরে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রচন্ড গরমে জীবন হাসফাস হয়ে উঠছে। সারা দিনে কাজ কাম করে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাবো সেই অবস্থা আর নাই। তাছাড়া বাচ্চারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। জ¦র, সর্দি লেগেই আছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রমজান আলী বলেন, গত ৭ দিনে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু ও বৃদ্ধরা জ¦র, স্বদী ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ডায়রিয়া প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও প্রতিদিন গড়ে যেসব রোগী দেখা হচ্ছে তারা অধিকাংশ গরম জনিত কারনে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের নিবিড় ভাবে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

নাটোর পল্লী বিদ্যূত সমিতি -২ এর চারঘাট জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শ্রী রঞ্জন কুমার সরকার জানান, চারঘাটে দিনের বেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যূত পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬-৭ মেগাওয়াট। অন্য দিকে রাতের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭-৮ মেগাওয়াট। বিদ্যূুতের চাহিদার তুলনায় বিদ্যূতের ঘাটতি অনেক। তাই অনিচ্ছাকৃত ভাবেই বিদ্যূতের লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আর এটা শুধু চারঘাটেরই সমস্যা তা নয়। এটা জাতীয় সমস্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে