জয়পুরহাটে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ, অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বাগান বাড়ি উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৪; সময়: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ |
জয়পুরহাটে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ, অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বাগান বাড়ি উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট শহরের একটি কওমী হাফেজিয়া বালিকা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তাঁর কথিত বাগান বাড়ি উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়েছে।

এ দাবিতে মঙ্গলবার সকালে শহরের জিরো পয়েন্ট পাঁচুর মোড়ে সড়কে মানববন্ধন করা হয়েছে। উপজেলা জনপ্রতিনিধি ও এনজিও সমন্বয় কমিটি, সিএসও সদস্য ও সাধারণ জনগণের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, এইচ,পি, ডি,ও নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সভাপতি মাহবুবা সরকার, নির্বাহী পরিচালক মোসলেমা বেগম,ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম, ডাসকো ফাউন্ডেশনের এলাকা ব্যবস্থাপক ভানুরানী, হযতরত আলী ও ভারতী রানী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসার ছাত্রীর বাবা একজন ট্রাকচালক। ওই ছাত্রীর মাদ্রাসার মাসিক বেতন বকেয়া থাকায় ঈদের আগের দিনে মেয়েটিকে তার বাবা বাড়িতে নিয়ে যেতে দেয়নি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে মেয়েটিকে নিয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক তাঁর বাগান বাড়ি পরিস্কার করতে যান। সেখানে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বারো বছরে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি ভয়ে কাউকে ঘটনাটি জানায়নি। গত শনিবার ঈদের ছুটি শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় আসার পর মেয়েটি তাদের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। এরপর মেয়েটি তার দুই সহপাঠীকে নিয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে থানা এসে পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হককে আটক করে থানা নিয়ে এসেছে। মেয়টি বাবা মামলা দায়ের পর অভিযুক্ত আজিজুল হকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হকের বাগান বাড়িটি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। অভিযুক্ত আজিজুল হকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তাঁর বাগান বাড়ি উচ্ছেদ করতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা এইচ,পি, ডি,ও সভাপতি মাহবুবা সরকার বলেন, বেতন বকেয়া থাকায় মেয়েটি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। ঈদের ছুটিতে মেয়েটিকে মাদ্রাসায় আটকে রেখে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা তাকে ধর্ষণ করেছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অনেক প্রভাবশালী। একারণে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা অভিযুক্ত আজিজুল হকের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তি ও বাগান বাড়ি উচ্ছেদের দাবি জানাচ্ছি।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটি তদন্ত চলছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে