লিবিয়ায় অপহরণ রাজশাহীর যুবক, মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৪; সময়: ১:৫৭ অপরাহ্ণ |
লিবিয়ায় অপহরণ রাজশাহীর যুবক, মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক : লিবিয়ায় অপহরণের শিকার ওয়াসিম আলী নামে প্রবাসী যুবককে নির্যাতন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওয়াসিম রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার সায়বাড় গ্রামের সাত্তার আলীর ছেলে।

ছেলেকে ফিরে পেতে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর‌ পরিবার ।

সংবাদ সম্মেলনে কান্না-জড়িত কণ্ঠে ওয়াসিমের মা পেমালা বেগম জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় আমার ছেলে একবছর আগে আমাদের গ্রামের মিলনের মাধ্যমে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে লিবিয়ায় যায়। সেখানে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ নেয়।

তিন মাস সেখানে কাজ করার পরে লিবিয়া প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ইসমাইল সেখান থেকে তাকে ইতালিতে আরও ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর থেকে ছেলের সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। প্রায় ১৫ দিন পর ছেলে ফোন দিয়ে বলে, মা আমাকে বাঁচাও, এরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে জিম্মি করে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে ছয়মাস থেকে অপহৃত। তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়, আমাকে ভিডিও কলে দেখায় ছেলেকে মারধর করা হচ্ছে। ছেলে কান্না করে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনা। ওরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিলো আমি ৮ লাখ টাকা ইসমাইলের কাছে দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার ছেলেকে তারা ছাড়েননি। আরও টাকা দাবি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসিমের মামা আব্দুল জলিল জানান, মাফিয়ারা আমার ভাগ্নেকে অপহরণ করেছে বলে জানিয়েছেন ইসমাইল। কিন্তু আমরা মনে করছি এই ঘটনায় ইসমাইল নিজেই জড়িত আছে। আমরা দুইবারে ৮ লাখ টাকা দিয়েছি অনেক কষ্ট করে। কিন্তু এরপরও তাকে ছাড়েনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা দুর্গাপুর থানায় গিয়েছি কয়েকবার। কিন্তু থানায় গেলে পুলিশ বলে বাইরের দেশে অপহরণ হয়েছে আমরা কি করবো। তারা অভিযোগ নেন না। আমরা ফিরে আসি।

সংবাদ সম্মেলনে লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার ওয়াসিমকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তার পরিবার এবং ইসমাইল ও নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে