ভূমির পাঠশালা ভূমি সেবা নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায়

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৪; সময়: ৮:০৯ অপরাহ্ণ |
ভূমির পাঠশালা ভূমি সেবা নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবায় স্মার্ট ভূমি সেবায় স্মার্ট নাগরিক বিনির্মাণের লক্ষ্যে ‘ভূমির পাঠশালা’র প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে গোবিন্দপুর মৌজার ভূমি মালিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় গোবিন্দপুর আমবাগান প্রাঙ্গণে উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষ সরাসরি এসিল্যান্ডকে তাদের মাঝে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়েছেন। তাদের অনেকের কাছেই এই ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব। এভাবে জনগণের কাছাকাছি আসায় জনগণও মন খুলে তাদের জমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়েছেন এবং এসিল্যান্ড তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দিয়েছেন। এক সময় মানুষ এসিল্যান্ডের সাথে দেখা করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করত, এখন তিনি স্মার্ট ভূমিসেবা নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায়। ভূমির পাঠশালার মাধ্যমে একটি মৌজাকে ভূমি সেবার দিক থেকে স্মার্ট মৌজায় রুপান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, স্থানীয় জনগণ এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা এই উদ্যোগ একদিন পবা থেকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এই মতবিনিময় সভায় হড়গ্রাম ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার একশো ভূমি মালিক উপস্থিত ছিলেন। ভূমি মালিকরা অতিউৎসাহী হয়ে তাদের ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কথা এসিল্যান্ডের সামনে তুলে ধরেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার তাদের সমস্যার কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

এসময় গোবিন্দপুর গ্রামের বয়বৃদ্ধা সাদেক আলীও এসেছিলেন একটি দলিল হাতে। তিনি জানান, জীবনে প্রথম দেখলাম এসিল্যান্ড অ্যাইছে আমাগো জমির ঝামেলা মিটাইবার। আমার একটা দলিল ছিল কিন্তু খাজনা খারিজ করতে পারি নাই। তাই অ্যাইছিলাম এসিল্যান্ডরে কইবার। এসিল্যান্ড কাগজ দেইখ্যা সমাধান কইরা দিছে। এতে অনেক উপকার হইছে।

গোবিন্দপুর মৌজার আরেকজন বাসিন্দা করিম শেখ বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পর জমি নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। আজ এসিল্যান্ড স্যার যে পরামর্শ দিলেন তাতে আমাদের জটিলতা আশা করছি নিরসন হবে’।

হড়গ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. দুলাল হাসান বলেন, এই ইউনিয়নের ২০ জন যুবক-যুবতী ভূমির পাঠশালা’য় ভূমি বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তারা এই প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এলাকায় ছোটখাটো ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই কার্যক্রম চলমান থাকলে ভূমি সংক্রান্ত মামলার পরিমাণ দিন দিন কমে আসবে। এক্ষেত্রে ভূমির পাঠশালার মাধ্যমে গোবিন্দপুর মৌজাকে ভূমি সেবার দিক থেকে স্মার্ট মৌজায় রুপান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার বলেন, ভূমি সেবাকে সহজলভ্য ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার মাধ্যমেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ‘ভূমির পাঠশালা’। আর এই পাঠশালায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভূমি সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে স্মার্ট ভূমিসেবা হবে জনবান্ধব সেবা।

তিনি আরো বলেন, জনগণের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যে স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে যেসব সেবা চালু হয়েছে, সে সব বিষয়ে ‘ভূমির পাঠশালা’ থেকে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে গোবিন্দপুর মৌজাকে স্মার্ট মৌজায় রুপান্তরিত করতে চাচ্ছি। এজন্য আমরা আজ নিজেরা এসেছি এই মৌজায় তাদের ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা শুনতে। আমরা এই মৌজার ভূমি মালিকদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে বসব এবং আগামী ০৩ মাসের মধ্যে এই মৌজার একটি দাগের জমি থাকবে না খাজনা খারিজ ব্যতীত। এর পূর্বে আমরা এই এলাকার ২০জন যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি ভূমির মৌলিক জ্ঞান বিষয়ে। সকলের সহায়তায় খুব দ্রুতই আমরা এই মৌজাকে স্মার্ট মৌজায় রুপান্তরিত করতে সক্ষম হবো বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, ভূমি সেবায় ‘ভূমির পাঠশালা’ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিত সরকার স্যারের একটি ব্যতিক্রমধর্মী অভিনব উদ্ভাবন। এই পাঠশালা’য় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ভূমি বিষয়ক মৌলিক জ্ঞান প্রদান এবং তাঁদের দিয়ে ভূমি মালিকদের স্মার্ট সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগের একটি বিশেষত্ব রয়েছে। জনমুখী ও জনবান্ধব ভূমি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমি মালিকদের সমস্যা ও তাৎক্ষণিক সমাধানের পথ দেখিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভূমি মালিকগণ বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে