ইবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৪; সময়: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ |
ইবি শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইবি : অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সর্বাত্মক কর্মবিরতির আজ প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষক সমিতি ৭ টি কর্মসূচি নিয়ে প্রথমদিনের কর্মবিরতি পালন করেছে।

সোমবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচ তলায় দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মবিরতি পালন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদত হোসেন আজাদ, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার, অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, সাহিদা আখতার, অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক মো. জাফর আলী, অধ্যাপক ড. মুর্শিদ আলম, অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক তন্ময় সাহা জয় এবং উজ্জ্বল হোসেন সহ বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডিন এবং বিভাগের সভাপতি বৃন্দ।

অবস্থান কর্মসূচিকালীন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, আমরা শুরুতেই সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাই নি। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চেয়েছিলাম যেনো আগেই এর সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু কোনো সুরাহা না পেয়ে আজকের এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছি আমরা। সারা বাংলাদেশের সকল পবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আজকের এই প্রথম দিনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আমরা আশাকরি সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি আমলে নিয়ে খুব দ্রুত এর সমাধান দিবেন।

শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? সে বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা পরবর্তীতে অতিরিক্ত খাটুনি দিয়ে হলেও তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিবো ইনশাআল্লাহ। তবে আমরা আশাকরি সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত সমাধান করবে এবং শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি করবে না।

এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই আন্দোলন যেহেতু যৌক্তিক তাই এই আন্দোলনে আছে সাংবাদিকবৃন্দ, যারা এই দেশের কাজে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং আমাদের শিক্ষার্থীবৃন্দ, যারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ সহ বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ যদি আন্দোলনে থাকে, তাহলে আমাদের এই আন্দোলন নস্যাৎ করার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের কোন কুচক্রী মহলের নেই।

আজকের সাত কর্মসূচির মধ্যে ছিলো: ১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে, ২) অনলাইন ক্লাস, ইভনিং ক্লাস, আই, আই, ই. আর-এর ক্লাসসহ সকল প্রকার ক্লাস বন্ধ থাকবে, ৩) সেমিস্টার ফাইনাল, অভ্যন্তরিন মূল্যায়ন, ভর্তি-পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ সকল প্রকার পরীক্ষা বর্জন করা হবে, ৪) ডিনের অফিস, প্রভোস্টের অফিস, বিভাগীয় সভাপতির অফিস, ডিরেক্টরের অফিস, সেমিনার লাইব্রেরী ও ল্যাবসমূহের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, ৫) একাডেমিক কমিটি ও প্লানিং কমিটির সভা, পরীক্ষা কমিটির সভা, সিলেকশন বোর্ডের সভাসহ শিক্ষক-সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার সভা বন্ধ থাকবে,৬) শিক্ষকগণ কোন সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপ আয়োজন অথবা অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে