গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিজ অর্থায়নে সাপের এন্টিভেনম উপহার 

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৪; সময়: ৮:৩০ অপরাহ্ণ |
গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিজ অর্থায়নে সাপের এন্টিভেনম উপহার 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেশ কয়েক বছর থেকে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে রাসেল’স ভাইপার সাপের উৎপাত শুরু হয়েছে।  এই সাপের কামড়ে বেশ কয়েকজন মানুষও মারা গেছে।  তবে এবছর শুধু বরেন্দ্র অঞ্চল বলে নয় সারাদেশ ব্যাপি এই সাপ ছড়িয়ে পড়েছে।  রাসেলস ভাইপারের আতঙ্কে মানুষ মারা যাবে নিশ্চিত এই আতঙ্ক এখন সবার মনে। বিশেষ করে রাজশাহীর জেলার মধ্যে গোদাগাড়ীতে এই সাপের উৎপাত বেশী।

সাম্প্রতিক সময়ে এই সাপের আতঙ্ক নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন আতঙ্ক না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে সাপ কাটা রোগীর জন্য এন্টিভেনম দেওয়ার ঘোষণা দেন। রাজশাহীর ৯ টি জেলায়  মাত্র ২০ টি করে এন্টিভেনম দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে মাত্র  ১০ টি করে সরবরাহ করা হয়েছে।

এই সাপের আতঙ্ক ও চিকিৎসায় পর্যাপ্ত এন্টিভেনম নিয়ে যখন সবার মনে সংশয় তখন গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল উপজেলার নাগরিকদের কথা চিন্তা করে সুচিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চিতে নিজের অর্থায়নে ৫০ টি এন্টিভেনম গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করেছেন।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী মাজরুই রহমানের হাতে এই এন্টিভেনম তুলে দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন,  গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম,  উপজেলা সাবেক ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আশোকা কুমার চৌধুরীসহ অন্যান্য সুধিজন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, সারাদেশের মধ্যে  আমাদের উপজেলায় রাসেলস ভাইপার সাপের উৎপাত বেশী। চরঅঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় এই সাপ অধিক দেখা গেছে।  কোন কোন জায়গায় সাপের ৫০-৬০ টি বাচ্চা পাওয়ারও নজির আছে।  এই সাপের কামড়ে কয়েকজন মারাও গেছে।  ধান কাটার সময় শ্রমিকরা আতঙ্ক নিয়ে কাজ করেছে।  এই সাপে কাটলে মৃত্যু নিশ্চিত এটা খুব বিষধর সাপ এই আতঙ্ক সবার মনে বিরাজ করছে। আমি খোঁজ নিয়েছি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে পর্যাপ্ত সাপের এন্টিভেনম নেই।

বাইরে কিনতে গেলে অনেক দাম। আমার এলাকার সাধারণ মানুষ এগুলো কিনে চিকিৎসা করা দুঃসাধ্য তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমি নিজের অর্থায়নে এন্টিভেনম গুলো গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  জনগণের জন্য উপহার দিলাম। সংরক্ষণ ও সুচিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হলো এখন থেকে সাপে কাটা যেকোন রোগী এই এন্টিভেনম বিনামূল্যে পাবে। আমি সব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে কথা দিয়েছিলাম জনগণের কল্যানের জন্য নিবোদিত থাকবো। সুখে দু:খে সব সময় পাশে থাকার যে প্রত্যায় এমনি কাজের মধ্য দিয়ে আমি জনকল্যাণে নিয়োজিত হতে চাই।  সকলেই আমার জন্য দোয়া করবেন বলে জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. আলী মাজরুই রহমান বলেন, আমরা সরকারি ভাবে আপাতত ১০ টি এন্টিভেনম পেয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যান আরো ৫০ টি দিলেন এগুলো বিনামূল্যে জনকল্যাণ অনেক সহায়ক হবেন বলে জানান।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে