বাগমারার যুকবকে রাস্তা থেকে তুলেনিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ 

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৪; সময়: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ |
বাগমারার যুকবকে রাস্তা থেকে তুলেনিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় আল-আমিন ফরাসী (২৫) নামের এক যুবককে রাস্তা থেকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে গলায় হাসুয়া ঠেকিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ভুক্তভোগী আল আমিন ফরাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন বৃহস্পতিবার অনুমানিক সন্ধ্যা ৭.১০ ঘটিকার সময় আল আমিন তাহেরপুর বাজার হতে মটর সাইকেল যোগে বাড়ী ফেরার পথে খয়রা হানিফ মৌলবি এর বাড়ির পাশে পৌঁছা মাত্রই পূর্বে থেকে উৎপেতে থাকা কামরুল ইসলাম কমিন এবং তার ছেলে কামাল প্রাং ও জামাল উদ্দিন আল আমিনের মটর সাইকেলের গতিরোধ করে দাঁড়ায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

আল আমিন বলেন, জামাল ও কামাল তাকে মটর সাইকেল হতে টেনে হেঁচড়ে নামায় এবং জোর পূর্বক  তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।  পরে তাদের ঘরের  আটকিয়ে রাখে এবং জামাল ও কামাল এলোপাতাড়ী কিল, ঘুষি, লাথি মারে। এ সময় জামাল ও কামাল আল আমিনের কাছে থাকা পুকুরের মাছের খাবার কেনার ২,৯০,০০০ (দুই লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেয়।

পরে জামাল ও কামাল তাহদের হাতে থাকা হাসুয়া আমার গলায় ঠেকিয়ে ৩০০ (তিনশত) টাকা ষ্ট্যাম্পে জোর পূর্বক ভাবে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। আমাকে মটর সাইকেল থামিয়ে রাস্তা তেকে তুলে নিয়ে যাবার সময় এলাকার  আনিছুর রহমান, পিতা: মৃত চিকন মোল্লা ঘটনা স্থলে উপস্থিত থেকে পুরো ঘটনাটি দেখে।

আল আমিন তাহেরপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের খয়রা মহল্লার দাউদ ফরাসীর ছেলে। আল-আমিন আরো বলেন, আমার বাবা দাউদ ফরাসী অভিযুক্ত জামালকে বিদেশে (মালেশিয়া) কাজের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। বিদেশ গিয়ে জামালকে কাজ দেয়। সেই কাজ জামালের পছন্দ না হওয়ায় সেখানে আমার বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ওই কাজ জামাল করবে না বলে দেশে পাঠানোর কথা বলে। এক পর্যায়ে আমার বাবা জামালকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। সেই সাথে জামাল দেশে আসার পরে বিদেশ পাঠানোর কোন প্রকার টাকা তার দাবি থাকবে না বলে বাবাকে জানান।

গত কোরবানির ঈদের আগের দিন জামাল দেশে আসে এবং ২৭ জুন বিদেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে যে টাকা লেনদেন হয়েছে তা ফেরত নিবে বলে আমার উপরে এ ধরনের হামলা চালায়, আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল ও কামালের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, বিদেশে টাকা নিয়ে তাদের মাঝে কোন ধরনের সমস্যা নাই। গত ২৭ তারিখে আলামিনকে ধার দেওয়া ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তাদের মাঝে বাগবিতণ্ডার বা সমান্য কথা কাটা-কাটি হয় এছাড়া আর কিছুই নয়।

জামালের পিতা জানান যে, গত মে মাসের ২ তারিখে আলামিনকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধার দেয়া হয় দুই মাস মেয়াদে ,সেই টাকা বর্তমানে তাদের প্রয়োজন হওয়ায় আলামিনের কাছ থেকে ফেরত চাইলে তালবাহানা শুরু করে বিধায় আল- আমিনের সাথে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনিসুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কামাল এবং জামাল ও তার পিতা আলামিনের রাস্তায় মটর সাইকেল থামিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যেতে দেখে, কিন্তু স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওযার বিষয়টি তিনি দেখেনি।

অভিযোগের বিষয়ে তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সোহাইল রানা বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে।  তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে