বাগমারায় মচমইল হাটে অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে হাটসেড নির্মাণ বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৪; সময়: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ |
বাগমারায় মচমইল হাটে অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে হাটসেড নির্মাণ বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মচমইল হাটের অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে হাটসেড নির্মাণ বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন অটোরিক্সা চালকরা। বৃহস্পতিবার অটোচালক আলাউদ্দিন আলী স্বাক্ষরিত একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসক সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট হাটসেড নির্মাণ কাজ বন্ধে আবেদন করা হয়।

আবেদন সূত্রে জানাগেছে, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল হাটের যে জায়গায় অনেকপূর্ব অটোরিক্সা ও ভ্যান স্ট্যান্ড হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সেই সাথে প্রতি রবিবার ও বুধবার ধানের হাট বসে। ধানের হাট শেষে সেখানে অটোস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ওই স্থানটি শহীদ গোলাম রাব্বানী চত্তর নামে পরিচিত। মচমইলে প্রতি সপ্তাহে চার দিন হাট বসে। চারদিন হাট বসলেও হাট জুড়ে কেবল অটোস্ট্যান্ডের যে জায়গায় ধানহাটা বসানো হয় সে টুকুই ফাঁকা। হাটের মধ্যে সরকারী যে সকল হাটসেড রয়েছে তা অনেক পুরাতন।

সেই সাথে যে যার মতো দখল করে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করে আসছে। ওই সকল হাট সেডের অনেক গুলো ব্যবহার অনুপযোগী। তাই সেগুলো সংস্কার করা জরুরী। পুরাতন হাটসেড সংস্কার না করে অটোস্ট্যান্ড বা ধান হাটার জায়গায় সেড নির্মাণ করা উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। যে জায়গা টুকুর উপর হাট সেড নির্মাণ করা হবে বলতে গেলে সেটি মচমইল হাটের হৃদপিন্ড। সেখানে হাট সেড নির্মাণ করা হলে ধ্বংস করা হবে হাটের পরিবেশ। সেই সাথে উচ্ছেদ হয়ে যাবে অটোস্ট্যান্ড এবং ধানের হাট। অটোস্ট্যান্ডে হাটসেড নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য ৫০ জন অটোচালকের গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়ে ওই আবেদনে। উক্ত জায়গাটি স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহারের বিকল্প কোন জায়গা মচমইল হাটে।

উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বেশ কয়েকটি হাটে হাটসেড  নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে মচমইল হাটের ধানহাটা এবং অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে দুটি হাটসেড নির্মাণ কাজ শুরু করে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

অভিযোগকারী আলাউদ্দিন আলী বলেন, মচমইলে হাট শুরুর পর থেকে এই স্থানটি ফাঁকা ছিল। বর্তমানে ধানের হাট বসানোর পাশাপাশি অটোস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এখানে হাটসেড নির্মাণ করা হলে শতশত পরিবহণ চালক কোথায় যাবো। কেন সেখানে হাটসেড নির্মাণ করতে হবে। হাটের মধ্যে যে সকল সেড আছে সেগুলো দখল হয়ে আছে সেখানে তো নতুন ভাবে সেড তৈরি করতে পারে সরকার। ফাঁকা স্থানে অটোস্ট্যান্ড হওয়ার কারনে এই স্থানে হাটের অনেক মালামাল ট্রাকে উঠা নামার কাজ করা হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে মচমইল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মচমইল হাটের ধানহাটা বা অটোস্ট্যান্ডে হাটসেড নির্মানের কোন অর্থ হয় না। মচমইল হাটে পূর্বে থেকে যে সেড রয়েছে সেগুলো সংষ্কার করা জরুরী। সেই সাথে বাগমারার সর্ববৃহৎ পান হাটা মচমইল। সেখানে কোন সেড নেই। তাই সেখানে সেড নির্মাণ করা যেতে পারে।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমানের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নতুন করে মচমইল এবং শিকদারী হাটে হাটসেড নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের কোন সমস্যা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে বণিক সমিতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মতামতের ভিত্তিতে স্থান পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অটোস্ট্যান্ডে হাটসেড নির্মাণ না করার জন্য আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় তা তদন্ত সাপেক্ষে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে