সংস্কারের নামে অনিয়মের কবলে বড়াল নদী

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৪; সময়: ৩:১৯ অপরাহ্ণ |
সংস্কারের নামে অনিয়মের কবলে বড়াল নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট : পানি প্রবাহে প্রতিবিঘ্নতা সৃষ্টি হওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া বড়াল নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইলট প্রকল্প বড়াল নদীর মুখ পুন:খনন এর মাধ্যমে উৎস্যমুখ মহনায় ও নদীগর্ভে খনন কাজে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী সূত্রে জানা যায়, পদ্মানদী থেকে শাখানদী বড়ালে পানির সুষ্ঠ প্রবাহ বজায় রাখতে নদী মহনায় প্রায় ৪শ ৫০ মিটার খনন করা হবে যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ অপরিকল্পিত খনন নদীর উৎস্যমুখে সঠিক পানি প্রবাহে কোন কাজে আসবে না গচ্চা যাবে প্রকল্প থেকে দেয়া সরকারের বরাদ্দ অর্থ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোং খননযন্ত্র ভেকু দিয়ে কয়েকদিন নদীর মহনায় ও ব্রীজ সংলগ্ন জায়গায় মাটি কেটে নদীর ভিতরে রেখে দিয়েছে। বৃষ্টিতে অথবা বর্ষা মৌসুমের পানিতে মাটি ধুয়ে আবার নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

বড়াল নদীর উৎস্যমুখের মূল মহনায় না কেটে খানিকটা দক্ষিন দিকে সরে গিয়ে ১০-১২ মিটার প্রস্থ সরু খাল এর মতো খনন করা হয়েছে। অথচ উৎস্যমুখে বড়াল আয়তন প্রায় ৪শত ফুট প্রশস্ত ।

বড়াল নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে চিরতরে নদীটি বিলীনের মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ করেন অভিজ্ঞমহল। তাদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে খনন না হওয়ায় নদীটি ভরাট হয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে।

বর্তামানে খনন কাজ শুরু করা হলেও তা সরুভাবে খনন করে একদম খালে পরিনত করা হচ্ছে। নদীটি সঠিকভাবে খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন কলেজ শিক্ষক নজরুল ইসলাম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুরের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড়াল নদীর মুখ পুন:খনন পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৫০ মিটার খনন কাজ করার জন্য এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নাব্যতা ফিরতে ইতিমধ্যে বড়াল নদীর মুখে খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে তবে উৎস্যমুখে খননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি সরবরাহ বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নাটোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমরান হোসেন মুঠোফলে বলেন এ প্রকল্প বিষয়ে আমরা অবহিত নয় তবে ইতিমধ্যে বড়াল পুন:খননের জন্য বড়াল নদী পুন:জীবিতকরণ প্রকল্প নামে প্রকটি প্রকল্প দেয়া হয়েছে যা পরিকল্পনা মন্ত্রলয়ের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বড়াল নদীর প্রায় ১০২ কিমি খনন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদা খানম বলেন, বড়াল নদী সংস্কার সংক্রান্ত তথ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নাটোর অথবা রাজশাহী শাখা উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নাই। তবে জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানানো হবে।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে